কোনো একক শক্তির আধিপত্য চিরস্থায়ী নয়

যুগান্তর মনজুর কাদের প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯

সৃষ্টিকর্তার বিধান হলো কেউ এককভাবে শক্তিশালী হয়ে সবকিছু সব সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। এটি সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ মুহূর্তে, ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বমঞ্চে তার অভূতপূর্ব সামরিক শক্তির কথা জানিয়ে দেয়। তবে সেই একক আধিপত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পুঁজিবাদের নেতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৪৯ সালের ২৯ আগস্ট কাজাখস্তানে প্রথম পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সেই অহংকারের অবসান ঘটিয়ে দেয়। শুরু হয় দুই পরাশক্তির পারমাণবিক প্রতিযোগিতা, যা পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তিতে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত একক পরাশক্তির আধিপত্যের পরিবর্তে দুই পরাশক্তি পারমাণবিক ভারসাম্যের যুগে প্রবেশ করে।


চীনের পারমাণবিক শক্তির উত্থান : চীনের পারমাণবিক বোমা অর্জন স্নায়ুযুদ্ধের শক্তির ভারসাম্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করে। এর ফলে-যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে এশিয়ায় একটি স্বতন্ত্র পারমাণবিক শক্তির উত্থান ঘটে। চীন তার নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা যুক্ত করে। এশিয়ার কৌশলগত রাজনীতিতে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। পারমাণবিক শক্তির একক আধিপত্যের ধারণা আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।


সমাজতন্ত্র ঠেকানোর কৌশল : বিগত স্নায়ুযুদ্ধের সময় কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনকে ঠেকাতে গিয়ে পুঁজিবাদ এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবক্তা যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোদস্তুর হিমশিম খেতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ধর্মও তখন ভূরাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। জরুরি ভিত্তিতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক শক্তিকে কমিউনিজমবিরোধী জোটে অন্তর্ভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে সোভিয়েত প্রভাব ও কমিউনিজম ঠেকাতে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।


দৃশ্যপটে আফগানিস্তান : সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন : ১৯৭৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর তৎকালীন পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট সরকারকে রক্ষা ও নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখার জন্য সে দেশে সামরিক আগ্রাসন চালায়। এটি সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ নামে পরিচিত, যা দীর্ঘ ১০ বছর চলেছিল। আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর কমিউনিস্টবিরোধী মুজাহিদিনদের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ধর্মীয় পরিচয় ও সোভিয়েতবিরোধী রাজনৈতিক আবেগকে এ প্রতিরোধে কাজে লাগানো হয়। অর্থাৎ, স্নায়ুযুদ্ধের ভূরাজনীতিতে ইসলাম শুধু একটি ধর্মীয় পরিচয় ছিল না; কিছু ক্ষেত্রে এটি কমিউনিজমবিরোধী তৎপরতায় একটি উপাদান হিসাবেও ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৪৫ থেকে ১৯৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভেঙে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি হিসাবে স্নায়ুযুদ্ধে লিপ্ত ছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে ১৫টি নতুন প্রজাতন্ত্র গঠিত হয় এবং এর ফলে স্নায়ুযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বিশ্বে একক শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয় যুক্তরাষ্ট্র। স্বল্পমেয়াদে সোভিয়েতবিরোধী প্রতিরোধকে শক্তিশালী করার যে কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল, পরবর্তী দশকগুলোতে আফগানিস্তানসহ বৃহত্তর অঞ্চলের রাজনৈতিক সহিংসতা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিকাশের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর ফলে বিশ্ববাসী এক দশক পর ভূরাজনীতিতে নতুন দৃশ্য দেখতে পান।


যুক্তরাষ্ট্র আত্মতুষ্টি : জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি : স্নায়ুযুদ্ধে বিজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র যখন বিশ্বের একক পরাশক্তির আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে আত্মতুষ্টির ঘোরে নিমগ্ন, তখন আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে জেগে উঠতে থাকে ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতির বিকাশ। মুসলিম বিশ্বের ব্যাপক সম্ভাবনা একদিকে যেমন নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিতে থাকে, অন্যদিকে ইসলামবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম নেয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও