প্রোডাক্টিভিটির নামে নিজের মনোযোগ হারাচ্ছেন না তো
ব্যস্ত জীবনে বেশি কাজ করার চেষ্টাই সব সময় বেশি ‘প্রোডাক্টিভিটি’ বা উৎপাদনশীলতার লক্ষণ বলে মনে করেন। প্রচলিত এই অভ্যাসই আপনাকে আরও ক্লান্ত করে তুলতে পারে এবং কাজের দক্ষতা কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সত্যিকারের উৎপাদনশীলতা কখনোই নিজেকে ক্লান্ত বা অবসন্ন করে তোলার ওপর নির্ভর করে না। বরং কিছু প্রচলিত অভ্যাস উল্টা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
একসঙ্গে অনেক কাজ করার চেষ্টা
অনেকেই মনে করেন, একই সময়ে একাধিক কাজ করলে সময় বাঁচে। কিন্তু গবেষণা বলছে, মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ সত্যিকার অর্থে দক্ষতার সঙ্গে একাধিক কাজ একসঙ্গে করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে অনলাইন মিটিংয়ে অংশ নেওয়া, অন্যদিকে ই-মেইল দেখা বা বার্তার উত্তর দেওয়ার ফলে কোনো কাজেই পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। বারবার এক কাজ থেকে অন্য কাজে মনোযোগ সরাতে গিয়ে মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ফলে কাজ শেষ হতে বেশি সময় লাগে এবং ভুলের পরিমাণও বাড়ে। তাই এক সময়ে একটি কাজেই পূর্ণ মনোযোগ দেওয়াই ভালো। এতে কাজ দ্রুত শেষ হয় এবং ভুলও কম হয়।
বিরতি না নেওয়া
অনেকেই ব্যস্ততার কারণে দুপুরের খাবারের সময়ও কাজ করেন বা নির্ধারিত বিরতি এড়িয়ে যান। কিন্তু এটি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বদলে কমিয়ে দেয়। একটানা দীর্ঘ সময় কাজ করলে মনোযোগ কমে যায় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দুর্বল হতে থাকে। নিয়মিত ছোট বিরতি শরীর ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়, ফলে কাজে ফিরে আবার নতুন উদ্যমে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিরতিকে গুরুত্ব না দিলে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। তাই বিরতির সময় অন্য কোনো কাজ করার চেষ্টা না করাই ভালো।
অতিরিক্ত দীর্ঘ কাজের তালিকা তৈরি
কাজের তালিকা অনেকের কাছেই উৎপাদনশীলতার অন্যতম হাতিয়ার। তবে তালিকাটি যদি খুব দীর্ঘ হয়, তাহলে সেটি উল্টা উদ্বেগ বাড়াতে পারে। তাই করণীয় তালিকা ছোট রাখুন এবং জরুরি কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দিন। এতে কোন কাজটি আগে করা উচিত, তা নির্ধারণ করা সহজ হয় এবং অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপও কমে।
- ট্যাগ:
- লাইফ
- মনোযোগ
- উৎপাদনশীলতা
- কাজের দক্ষতা