ঐক্যের স্বপ্ন-বিভোর খণ্ড বিচ্ছিন্নতা

ঢাকা পোষ্ট তুষার দাশ প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯

শেষ হলো মহাযজ্ঞ। বিশ্বকাপের। অসামান্য মঞ্চ। আলোকোজ্জ্বল। এখানেই মঞ্চস্থ হয় নব্বই মিনিটের নাটক। এরপর বাতাসের সঙ্গে ভেসে আসে দুটো করে শব্দ। জয়, পরাজয়। বিজয়ী, বিজিত। তার সঙ্গে হাসি-কান্নার হীরে-পান্না ঝরতে থাকে নীরবে। কোটি কোটি মানুষ এই নব্বই মিনিটের উত্তেজিত দর্শক। তাদের ভেতরকার ঐক্য ওই সৌন্দর্যের দ্বিধাহীন অবলোকনের আনন্দময় ঔৎসুক্যে।


যে মহত্তম লক্ষ্যকে সামনে রেখে শত শত বছর আগে ফুটবলের যাত্রা। তার ভিত্তি ছিল জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সর্বমানবের বিশ্বজোড়া ঐক্য-সাধনা। সেই ভিত্তিমূলের ভেতরেই আজ চলছে সেরা বিশ্ব-বৈশ্যদের সমান্তরাল, ভয়ংকর লোভনীয় বাণিজ্যিক প্রয়াস, যেখানে তারা বহু শতভাগ সফল।


তাদের সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিকৃষ্টতম বাজিকরদের লোলুপ জুয়াবাজির রমরমা কারবার। আর এর ফলেই মাঠের ভেতর ঢুকেছে সেই জুয়ার ঘোলা জোয়ার। তার ফলে, মাঠে সৌন্দর্য সৃজনের বিপরীতে আগেই ভাগ্য নির্ধারিত ম্যাচের কুশলী, ছন্দময়, দক্ষ, উদ্ভাবনী প্রতিভারা পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে নানান অসুন্দরের জন্ম দিচ্ছে বহুকাল যাবৎ।


আদিম সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থার কথা আমরা শুনেছি। তখন মানুষের মুখগুলো ছিল অন্যসব মুখদের প্রতি নিবদ্ধ আর পরস্পরের প্রতি যত্নবান, মানুষগুলো মিলেমিশে শিকারলব্ধ খাবারদাবার ভাগ করে খেয়েছে। একসঙ্গে গান আর নাচ করেছে। অন্যের সম্পদ কুক্ষিগত করার কু-মতলব তাদের মনে উদিত হয়নি।


সমাজে বুদ্ধিমান মানুষের জন্ম হওয়ার পর থেকে সমাজ বিকাশের নানা স্তর পেরিয়ে বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকের অর্ধশতাব্দীর দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা পৃথিবীর মানুষদের টালমাটাল করে দিয়েছে। আর নতুন নতুন আরও আধুনিক যন্ত্রাদি বিকাশ ও আবিষ্কারের ফলে যন্ত্রণার আরও নতুন নতুন মুখ-মাত্রা আবির্ভূত হচ্ছে।


পুরো পৃথিবীটা ভয়ংকর অস্থিরতার ভেতর পড়ে গেছে। সারা বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ, হত্যাযজ্ঞ, নতুন আবির্ভূত মারণাস্ত্রের ব্যবহার সব মানুষেরই বিরুদ্ধে, মনুষ্যত্বের বিরুদ্ধেই, মানবিকতার বিপক্ষে।


জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের পথ বেয়ে আসা প্রতিযোগিতার আবর্ত আবিল করে ফেলেছে গোটা বিশ্বকে। আজ থেকে পঁচাত্তর বছর আগেই আমাদের সব আলোর উজ্জ্বলতম উৎস রবীন্দ্রনাথ তার শেষ ভাষণে সভ্যতার সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন।


সেখানেই ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই শ্রেষ্ঠত্ব দাবির নতুন কথা আজ শুনি এভাবে—‘আমেরিকা ফার্স্ট’। পৃথিবীতে প্রথম হওয়া, দেশের বাজার দখলে প্রথম হওয়া, খেলাধুলায় প্রথম হওয়া, ক্লাসে প্রথম হওয়া, ভোটে প্রথম হওয়া অর্থাৎ সব জায়গায় এই প্রতিযোগিতামূলক কর্মকাণ্ড চলছে। ফাঁকফোকরে দু’চারটা ব্যতিক্রম বাদে সবখানেই যে অন্যায্য জয়ের এক গা-জোয়ারি মনোভাব আর তার পক্ষে আমাদের সাফাই গাওয়ার মনোভঙ্গী, তাই আমাদের সাধারণ আমমানুষকে করে তুলছে ক্রমাগত অসহায়, উদ্দেশ-উদ্দেশ্যহীন, ঠাঁইনাড়া, বানজারানের নিয়তি বিশ্বাসী প্রতিনিধি।


অস্থির পৃথিবীর নানা প্রান্তের বেশকিছু দেশে চলছে নতুন প্রজন্মের ক্রমাগত ক্ষোভ-বিক্ষোভ। রাষ্ট্রের পেটোয়াবাহিনী হিংসা ছড়ানো অমানবিক নির্মমতায় সেইসব আন্দোলন দমনের প্রয়াস চালাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে, সম্প্রতির ছাত্র-আন্দোলন দমনের সময় লাঠিচার্জ-টিয়ারগ্যাস ব্যবহারের পাশাপাশি বিক্ষোভকারী ছাত্রীদের গোপনাঙ্গে লাঠি প্রবেশ করানোর মতো নিষ্ঠুরতাও প্রদর্শন করেছে বলে কোনো কোনো প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পুলিশকেও শিক্ষার্থীদের আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে।


শিক্ষার্থীরা আবার নতুন করে তাদের নির্ধারিত নেতার বিরুদ্ধেই নতুন করে আন্দোলন শুরু করেছে নেপালে। পাকিস্তান আবার নতুন করে ভাঙছে। বেলুচিস্তান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে। ইরান-আমেরিকা-ইসরায়েলের সংকট কাটেনি। আফ্রিকাও কোথাও কোথাও বেশ অশান্ত। ভিন্ন দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আর তার স্ত্রীকে সেনা পাঠিয়ে তুলে নিয়ে আসার উদাহরণ তৈরি তো বহু আগেই হয়েছে। এই নতুন ধরনের শক্তিমত্তা প্রকাশের অবাক কাল আমাদের পার হতে হচ্ছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও