মনুষ্যত্ব বোধকে জাগ্রত করি
আমাদের সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের যে মহামারি চলেছে, তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহপাকের দেওয়া জীবন বিধান আল কুরআনের শিক্ষা অনুসরণ। সামাজিক অস্থিরতা আর অবক্ষয় হঠাৎ করেই যেন প্রবল রূপ ধারণ করেছে।
পারিবারিক সামাজিক অবক্ষয়জনিত একের পর বীভৎস ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে আমাদের প্রিয় এ দেশ। হত্যা, ধর্ষণ, পরকীয়া, আত্মহননের মিছিলে বেরিয়ে পড়ছে সমাজের এবং নৈতিকতার বিপর্যয় এবং অধঃপতনের ভয়ানক চিত্র। প্রতিদিনই ঘটছে নানা ধরনের অপকর্মের ঘটনা।
সামাজিক অবক্ষয়ের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক অনুশাসনের অভাব, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের অভাব।
আমরা যেন ক্রমেই এক নিষ্ঠুর সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে মানবিকতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দয়া, মমতা এসব শব্দের কোনো অস্তিত্বই নেই। তার জায়গা দখল করে নিয়েছে অনৈতিকতা, অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা, স্বার্থপরতা, জিঘাংসা, হিংসা, বিদ্বেষ কিংবা এ জাতীয় সব নেতিবাচক শব্দের কালো হাত।
ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের মাত্রা যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। শিশু থেকে বয়স্ক কোনো নারীই নিরাপদ নয় ধর্ষকদের থাবা থেকে। নারীরা যেন আজ কোথাও নিরাপদ নয়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, গৃহবধূ এমনকি অবুঝ শিশুও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। প্রতিদিনের খবরের কাগজে এমন অনেক খবর আসে, যা দেখলে যে কোনো সভ্য মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
বর্তমান সময়ে ধর্ষণের মাত্রা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে সচেতন নাগরিক এমনকি জনসাধারণের মাঝে। আবার কোথাও প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে আর আমরা দর্শকের ভূমিকা পালন করছি। এমন সব নৃশংস ঘটনা দেখেও আশপাশের কেউ এগিয়ে না আসায় সহজেই উপলব্ধি করা যায়, আমাদের অবস্থান আজ কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে।
আজ আমরা এতটাই অবক্ষয়ে জর্জরিত যে, বিবেকের যেন মৃত্যু ঘটেছে। যে দিকে তাকাই শুধু অস্থিরতা। বর্তমানে যে সামাজিক ও পরিবেশগত অবস্থা তাতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অশান্তি বাড়ছে। ফলে মানুষের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে। আর এ হতাশা থেকে তার মধ্যে এক ধরনের আগ্রাসী মনোভাবের সৃষ্টি হয়। ব্যক্তির মধ্যে নেতিবাচক দিকগুলো ফুটে ওঠে। সে আত্মবিশ্বাসী হয় না। তার মধ্যে ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি কাজ করে। নৃশংস হয়ে ওঠে। এর ফলে ব্যক্তি নিজে যেমন : অন্যকে ধ্বংস করতে চায়, অন্যদিকে সে নিজেও এর শিকার হয়। এক্ষেত্রে নারীরা নৃশংসতার শিকার হয় বেশি। মূলত আমরা প্রতিনিয়ত যে-সব পৈশাচিক আর হৃদয়বিদারক ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি, তা আসলে সমাজেরই প্রতিচ্ছবি। এসব আমাদের অবক্ষয় আর সামাজিক সংকটের চিত্র। অনেক ক্ষেত্রেই সবার অজান্তে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও অসাম্য বিস্তার লাভ করেছে ভয়াবহ আকারে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- সামাজিক অবক্ষয়
- মানবিক মূল্যবোধ