পর্যটনের স্বর্গ হতে পারত বাংলাদেশ, বাধা কোথায়?

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৫

একজন বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে এসে প্রথমে কী দেখেন? হয়তো কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবনের রহস্যময় সবুজ, সিলেটের চা-বাগান, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, বর্ষার হাওড়, নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি কিংবা হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষী কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। হয়তো দেখেন গ্রামের মেঠোপথ, নৌকার ধীর গতি, লোকসংগীত, বৈচিত্র্যময় খাবার আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আতিথেয়তা।


প্রথম দেখায় বাংলাদেশ তাঁকে মুগ্ধ করতেই পারে। কিন্তু কয়েক দিন পর তিনি কী নিয়ে দেশে ফিরবেন—এই প্রশ্নটিই আসলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তিনি কি বলবেন, ‘বাংলাদেশ অসাধারণ একটি দেশ’? নাকি বলবেন, ‘দেশটি সুন্দর, কিন্তু পর্যটন ব্যবস্থাপনা দুর্বল’?


২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। দিনটি প্রতিবছর আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পর্যটন শুধু বেড়ানো কিংবা অবকাশযাপনের বিষয় নয়; এটি একটি বড় অর্থনৈতিক খাত, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতির শক্তিশালী মাধ্যম। পৃথিবীর বহু দেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাপনকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন পণ্যে রূপান্তর করে অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে।


বাংলাদেশেরও সেই সম্ভাবনা আছে। বরং ভৌগোলিক আয়তনের তুলনায় আমাদের বৈচিত্র্য বিস্ময়কর। সমুদ্র আছে, পাহাড় আছে, বন আছে, নদী আছে, হাওড় আছে, চা-বাগান আছে। আছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, পুরোনো নগর, মসজিদ-মন্দির, লোকসংস্কৃতি, উৎসব, খাবার এবং নদীমাতৃক জীবনের অনন্য গল্প। একই দিনে একজন পর্যটক সমুদ্র দেখতে পারেন, পাহাড়ে যেতে পারেন, আবার নদীর বুকে নৌকায় রাত কাটাতে পারেন—এমন বৈচিত্র্য বাংলাদেশের একটি বড় সম্পদ। কিন্তু সৌন্দর্য নিজে নিজে পর্যটনশিল্প তৈরি করে না।


একটি সুন্দর জায়গাকে পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে হলে সেখানে পৌঁছানোর সহজ পথ থাকতে হয়, নিরাপত্তা থাকতে হয়, পরিচ্ছন্নতা থাকতে হয়, ভালো আবাসন থাকতে হয়, পর্যাপ্ত তথ্য থাকতে হয়, প্রশিক্ষিত গাইড থাকতে হয় এবং জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসা ও উদ্ধারব্যবস্থা থাকতে হয়। অর্থাৎ পর্যটনের আসল প্রতিযোগিতা শুধু প্রকৃতির সঙ্গে নয়; ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এখানেই।


সৌন্দর্য আছে, অভিজ্ঞতা কোথায়?


কক্সবাজারের কথা ধরা যাক। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতগুলোর একটি আমাদের রয়েছে। এটি বাংলাদেশের পর্যটন ব্র্যান্ডের কেন্দ্র হতে পারত। কিন্তু সৈকতকেন্দ্রিক পর্যটনের সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট, শব্দদূষণ, অপরিকল্পিত স্থাপনা, পরিবেশের ওপর চাপ এবং নিরাপত্তার প্রশ্নও সামনে আসে।


পর্যটক একটি সমুদ্র দেখতে যান, কিন্তু তাঁকে যদি ময়লা, প্লাস্টিক, অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড, অতিরিক্ত শব্দ আর বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে প্রকৃতির সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। একই চিত্র দেশের অন্য অনেক পর্যটনকেন্দ্রেও দেখা যায়। পর্যটক বাড়ছে, কিন্তু পর্যটন ব্যবস্থাপনা সেই হারে বাড়ছে না।


এখানে একটি মৌলিক ভুল আমরা করি। আমরা পর্যটনকে ‘মানুষ যাবে, ছবি তুলবে, খাবে এবং ফিরে আসবে’—এই সরল ধারণায় দেখি। অথচ আধুনিক পর্যটন একটি সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা। পর্যটক কোথায় থাকবেন, কী খাবেন, কীভাবে ঘুরবেন, কোথায় তথ্য পাবেন, কীভাবে স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হবেন, তাঁর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে—সবকিছু মিলিয়েই একটি পর্যটন অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।


একটি সুন্দর পাহাড়ের পাশে যদি নিরাপদ যাতায়াত না থাকে, একটি ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশে যদি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার না থাকে, একটি বনভ্রমণে যদি প্রশিক্ষিত গাইড না থাকে, একটি পর্যটনকেন্দ্রে যদি জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকে—তাহলে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে পর্যটক ধরে রাখা সম্ভব নয়।


সুন্দরবন: আয় না আত্মঘাতিতা?


বাংলাদেশের পর্যটনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি সুন্দরবন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে এর পরিবেশগত গুরুত্ব অসীম। বাঘ, হরিণ, কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, নদী ও খালের বিস্ময়কর জাল—সব মিলিয়ে সুন্দরবন শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিচয়ের অংশ।


কিন্তু সুন্দরবনকে পর্যটন থেকে আয় করার ক্ষেত্র হিসেবে দেখতে গিয়ে আমরা যদি তার পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করি, তাহলে সেই পর্যটনই একদিন সুন্দরবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত কতটা পর্যটন পরিবেশের ক্ষতি না করে পরিচালনা করা যায়। এখানে প্রয়োজন ‘বেশি পর্যটক’ নয়, ‘সঠিক পর্যটন’।


নির্দিষ্ট রুট, নির্ধারিত ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ফিরিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্লাস্টিক ব্যবহারে কঠোরতা, প্রশিক্ষিত গাইড এবং পরিবেশবান্ধব নৌযান—এসব নিশ্চিত করা দরকার। প্রকৃতিকে ব্যবহার করে পর্যটন অর্থনীতি তৈরি করতে হবে, কিন্তু প্রকৃতিকে ধ্বংস করে নয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও