সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির খরচ কমানোর উদ্যোগ কেন ভেস্তে গেল
সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণে কেনা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫০ হাজার টাকা থেকে অর্ধেকে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু প্রশাসনের তীব্র আপত্তির মুখে এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরতে হয়েছে। কেন এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, আর কেনই–বা তা প্রত্যাহার করতে হলো, এ নিয়ে সরকারের ভেতরেই এখন প্রশ্ন উঠেছে।
গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ সরকারকে যেমন অস্বস্তিতে ফেলেছে, একই সঙ্গে প্রশাসনে বিতর্ক তৈরি করেছে।
সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক প্রথম আলোকে বলেছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অতি উৎসাহী’ কিছু কর্মকর্তা সরকারের কাছে ভালো সাজতে গিয়ে এমন কাজটি করেছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমালে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, সেটি আমলে নেননি।
আবার এমন কথাও আসছে, এ ঘটনা আমলাতন্ত্রের কাছে নতিস্বীকারের বার্তা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোই শুধু নয়, পূর্ণ বৃত্তি পাওয়া কর্মকর্তাদের প্রেষণের (ডেপুটেশন) পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি দেওয়ার প্রস্তাবও একইভাবে পাঠানো হয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। দুটি বিষয়েই প্রশাসনে অসন্তোষ তৈরি হয়।
আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। এমনকি এতে কত টাকা সাশ্রয় হবে, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তা–ও নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি।
ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় কমাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠির ভাষাও ছিল অশোভন। সরকারি চিঠি লিখতে সরকারের নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- খরচ
- রক্ষণাবেক্ষণ
- সরকারি গাড়ি