উত্তোলনের তুলনায় মাটির নিচে পানি জমছে কম, খরাপ্রবণ এলাকায় বড় শঙ্কা
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাতটি জেলায় ভূগর্ভস্থ পানির মজুত পূরণ হওয়ার হার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেছে। স্বাভাবিকভাবে বছরে ১০০ থেকে ৫১৫ মিলিমিটার পানি ভূগর্ভস্থ স্তরে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে তা কমে ১০০ থেকে ২১০ মিলিমিটারে নেমে এসেছে।
উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভের পানি নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। এতে খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে পানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কার কথা বলা হয়েছে।
এই সাতটি জেলা হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাট এবং দিনাজপুর, নাটোর ও বগুড়ার কিছু অংশ।
গতকাল ঢাকায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক কর্মশালায় ‘বরেন্দ্র এরিয়া রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড ইনোভেটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন গৌতম চন্দ্র মৃধা। তিনি ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) সেচ, ভূগর্ভস্থ পানি ও জলাভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক।
এই গবেষণায় ১৯৮৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত, পানির স্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৮৫ সালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১৬ মিটার গভীরে ছিল। ২০২৫ সালে এসে তা ৩৬ মিটারে পৌঁছেছে। শুষ্ক মৌসুমে নাচোল, তানোর, নিয়ামতপুর এবং পোরশা উপজেলার কিছু এলাকায় পানির স্তর ৩৩ থেকে ৩৬ মিটার নিচে নেমে যায় বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গৌতম চন্দ্র মৃধা জানান, বৃষ্টির পানির কেবল একটি নির্দিষ্ট অংশই চুইয়ে মাটির নিচে গিয়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আবার পূরণ করে। বাকি পানি মাটি দিয়ে গড়িয়ে নষ্ট হয় অথবা নদীতে গিয়ে পড়ে।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- আশঙ্কা
- খরা
- ভূগর্ভস্থ পানি