জ্বালানি নিরাপত্তা : ছোট রিঅ্যাক্টর স্থাপন কতটা যৌক্তিক

যুগান্তর ড. মো. শফিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৪

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে একটি নতুন আলোচনা জোরালো হয়ে উঠছে-রূপপুর ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিট হিসাবে অথবা দেশের অন্য কোনো স্থানে স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) স্থাপনের সম্ভাবনা। সরকারের বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা ২০১৬ অনুযায়ী, জ্বালানি নিরাপত্তা টেকসই করতে ভবিষ্যতে আরও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী রূপপুরে আরও দুটি ইউনিট নির্মাণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও পরিচালিত হয়েছিল।


বর্তমানে গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ ১৮,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৫,০০০ থেকে ১৭,০০০ মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। ভূ-রাজনৈতিক কারণ, জ্বালানি অনুসন্ধানে জাতীয় সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং রিজার্ভের টানাপোড়েনের কারণে আমদানিনির্ভর জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, বার্ষিক ৭ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মহাপরিকল্পনা ২০২৩ অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়াবে ৬১ গিগাওয়াটে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসাবে এসএমআর কি আদৌ এ মুহূর্তের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত?


এসএমআর হলো সর্বোচ্চ ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ছোট আকারের পারমাণবিক চুল্লি। রূপপুরের প্রতিটি ইউনিটের ১,২০০ মেগাওয়াটের তুলনায় এটি অনেক ছোট। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৮টি দেশে মোট ৭২টি বিভিন্ন মডেলের এসএমআর ডিজাইন তৈরি হয়েছে। এসএমআর শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হাইড্রোজেন জ্বালানি উৎপাদন ও সমুদ্রের নোনা পানি বিশুদ্ধকরণেও ব্যবহার করা যাবে। বড় চুল্লির তুলনায় এসএমআর অনেক বেশি নিরাপদ এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক কম। ফলে দ্বীপ, উপকূল ও ডেটা সেন্টারের মতো বিভিন্ন স্থানে ভাসমান কিংবা স্থলভিত্তিকভাবে এসএমআর স্থাপন করা যাবে।


বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে এসএমআর চালু রয়েছে রাশিয়ার দুর্গম উপকূলীয় অঞ্চলের পেভেক বন্দরে একটি ভাসমান জাহাজের ওপর। সেখান থেকে বর্তমানে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়া, দেশটিতে আরও দুটি নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির কাজ চলছে-যার একটি একই অঞ্চলের কেপ নাগলোইনিন উপকূলে তৈরি হতে যাওয়া ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যটি সাইবেরিয়া অঞ্চলের সেভারস্ক শহরে ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্র। চীনের উপকূলীয় শহর রংশেংয়ের শিদাও বে-তে দুটি পারমাণবিক চুল্লি থেকে বর্তমানে মোট ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি, দেশটির হাইনান দ্বীপপ্রদেশের চাংজিয়াং উপকূলীয় এলাকায় আরও একটি নতুন ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির কাজ চলছে। আর্জেন্টিনাতেও নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ছোট আকারের ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এসএমআর কানাডা, পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্রে নির্মাণের জন্য চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও