বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী

www.ajkerpatrika.com প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬

এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই অবস্থায় জোরেশোরে বাড়ছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণ। বছরের প্রথম ছয় মাসে হাসপাতালে যাওয়া ডেঙ্গু রোগীর ৪৮ শতাংশই ভর্তি হয়েছে জুন মাসে। অর্থাৎ বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে ডেঙ্গু ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে আগামী চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে ভাইরাসসৃষ্ট এই জ্বরের প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন রোগতত্ত্ব এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।



চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬ হাজার ১০৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের হিসাবে বছরের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় জুন মাসে এসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ দেখা গেছে। শুধু জুন মাসেই সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯০৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন; যা বছরের মোট সংক্রমণের ৪৮ শতাংশ। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি থেকে মে) দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫ জন; আর জুন মাসেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


সরকারের তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬২৯ জন রোগী পাওয়া গেছে বরিশাল বিভাগে। চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ১৪০ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৮৭১ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর বিশেষ করে ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। স্থানীয়সহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান দিচ্ছে।

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ মশায় পরিণত হতে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। ফলে জুলাই মাসজুড়ে এডিস মশার ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।


জুলাই মাসে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দেশে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকার তুলনায় বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা ছাড়াও গাজীপুর, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, মাদারীপুর, বাগেরহাট ও নরসিংদীতে পরিস্থিতি বেশি খারাপ হতে পারে।


ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ হিসেবে না দেখে সাধারণ মশা নিয়ন্ত্রণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফগিং ও ড্রেন-নর্দমায় লার্ভানাশক প্রয়োগ মূলত কিউলেক্স মশার বিরুদ্ধে কার্যকর। কিন্তু এডিস মশা বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, বেসমেন্ট এবং জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। এডিসের প্রজননস্থল লক্ষ্য করে প্রমাণভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি না নিলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।’

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও