বন্ধু নির্বাচনে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য

যুগান্তর মনজুর কাদের প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:০২

সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করলে বাংলাদেশ মুক্ত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তমতে বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতের সব সৈন্য প্রত্যাহারের তিন দিন পর যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। অপরদিকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করার পরও মার্কিনিদের পথ অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকে। বাংলাদেশে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের পুতুল শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে-এ অভিযোগ এনে বাংলাদেশেকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে চীন বিরত থাকে। অবশেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবের পতন হলে ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে চীন স্বীকৃতি দেয়।


চীনে বাংলাদেশের দূতাবাসে মেজর ডালিমের নিয়োগ


১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক মেজর ডালিমের চাকরি ১৯৭৬ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হওয়ার পর গণচীনে তাকে কূটনীতিক হিসাবে বাংলাদেশ সরকার পাঠায়। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হলে চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক শাসন জারি হলে চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর সঙ্গেও চীনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ডালিম ১৯৮২ সালে কমিশনার হিসাবে হংকংয়ের দূতাবাসের দায়িত্বভার নেন। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত করতে তিনি এখান থেকে সহায়তা করেন।


বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের কূটনীতি জটিলতা


২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী নিযুক্ত হন ব্যবসায়ী মোর্শেদ খান। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল জাপানের-যে দেশটি হলো চীনের চির শত্রু। ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি সরকারের সময় তাইওয়ানের ভিসা অফিস খোলা নিয়ে বাংলাদেশ ও তাইওয়ানের মধ্যকার সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। ২০০৪ সালে তাইওয়ান সরকার ঢাকায় একটি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কার্যালয় খোলার অনুমতি পায়। এ অফিস থেকে তাইওয়ানের ভিসা প্রদান শুরু হয়। কিন্তু বেইজিংয়ের ‘এক চীন’ নীতির কারণে চীন ভীষণ খেপে যায়। আমি (লেখক) তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্ট কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। একদিন রাত দেড়টায় চীনের রাষ্ট্রদূত মি. চাইসি আমাকে ফোনে কল করে জানালেন, তিনি চাকরি হারাচ্ছেন। বেইজিং ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালাগালি শুরু করেছে। আমি জরুরি নোটিশ দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটির সভা আহ্বান করলাম। আমার ডানপাশের আসনে ছিলেন কমিটির সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) এবং কাজী জাফর উল্লাহ (আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য)। তারা উভয়েই আমার কানে ফিসফিস করে বললেন, চীনের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত আমি নিই, তাতে তারা একমত পোষণ করবেন।


আমার বাম দিকের আসনে ছিলেন জেনারেল মাহবুবুর রহমান (চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক ডিফেন্স অ্যাডভাইজর, সাবেক সেনাপ্রধান ও সংসদ-সদস্য)। তিনি চীনা ভাষায় কথা বলতে পারেন। আমার নেওয়া সিদ্ধান্তে যে একমত পোষণ করবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সভায় সিদ্ধান্ত হলো, তাইওয়ানের কার্যালয় জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করতে হবে।


চীনের রাষ্ট্রদূতের কল


চীনের রাষ্ট্রদূত আবার টেলিফোনে কল করে বললেন, দালানের দেওয়ালে এখনো তাইওয়ানের কার্যালয়ের ভিসা সম্পর্কিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা আছে। আমি আবার সভা ডেকে তাইওয়ানের কার্যালয় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ এবং সাইনবোর্ড সরানোর ব্যবস্থা করলাম। এরপর রাষ্ট্রদূত ‘চাইসি’ টেলিফোন করে বললেন তিনি ‘সিস্টার’-এর সঙ্গে দেখা করতে চান। সিস্টার অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রাষ্ট্রদূত চাইসি বেগম জিয়াকে সিস্টার অর্থাৎ বোন সম্বোধন করতেন। আমি বুঝতে পারলাম রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। আমি তৎক্ষণাৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বললাম। তিনি ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করলেন। পরে একদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান আমাকে বললেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাইপাস করে এ প্রথম কোনো রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন। তার কথায় মনে হলো আমি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছি।


চীন সফর


এরপর একটি ডেলিগেশন নিয়ে আমি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে গেলাম। বেইজিংয়ের পিপলস হলে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের সময়, ঢাকায় তাইওয়ানের ভিসা অফিস প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি যা বললেন তা অনুবাদকের ইংরেজি ভাষার বাংলায় রূপান্তর হলো, ‘কার্যত চীন বাংলাদেশে দূতাবাস বন্ধ করতে চেয়েছিল’। একটি দেশ কীরকম ক্ষিপ্ত হলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার চিন্তাভাবনা করতে পারে। এরপর চীনের রাষ্ট্রদূত চাইসির পদাবনতি হলো, ছোট একটি দেশে তার বদলি হলো, পরে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা যায়। চীনের কড়া আপত্তির কারণে বাংলাদেশ সরকার তাইওয়ানের ওই অফিসকে ভিসা দেওয়ার কোনো বৈধ অনুমতি বা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম চালাতে না পারায় ২০০৯ সালের ৩০ জুন তাইওয়ান এ কার্যালয়টি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও