You have reached your daily news limit

Please log in to continue


ফল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের চ্যালেঞ্জ ও নতুন সম্ভাবনা

বাংলার প্রকৃতি যেন ঋতুচক্রের সঙ্গে বদলে যাওয়া এক জীবন্ত শিল্পকর্ম। বৈশাখের দাবদাহে গাছে গাছে ঝুলে পড়ে রসালো আম, লিচু ও কাঁঠাল, বর্ষায় জাম, আতা ও আনারস, শরতে পেয়ারা এবং শীতের আগমনে কমলা, মাল্টা, বরইসহ নানা দেশি বিদেশি ফল মানুষের পুষ্টির এক অফুরন্ত ভাণ্ডার নিয়ে হাজির হয়। এই প্রাচুর্যের পেছনে রয়েছে লাখো কৃষকের কঠোর শ্রম ও দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প। কিন্তু বাস্তবে উৎপাদিত ফলের একটি বড় অংশ ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়।

অপরিকল্পিত সংগ্রহ, দুর্বল পরিবহন, শীতল সংরক্ষণ সুবিধার অভাব এবং বাজার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এই অপচয় বাড়িয়ে তুলছে, ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন, ভোক্তা বেশি দামে ফল কিনতে বাধ্য হন এবং জাতীয় অর্থনীতি বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ে। এই বাস্তবতায় কৃষি উন্নয়নের মূল আলোচনায় এখন শুধু উৎপাদন নয়, উৎপাদিত ফল সংরক্ষণ ও মূল্য সংযোজনের বিষয়টি দিন দিন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক কৃষি নীতিনির্ধারণী আলোচনা ও খাদ্য নিরাপত্তা কৌশলে স্পষ্টভাবে উঠে আসছে যে, টেকসই কৃষি ব্যবস্থার জন্য উৎপাদনের পাশাপাশি পোস্ট-হারভেস্ট ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে কৃষকের পরিশ্রমের প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত হয় এবং অপচয় কমিয়ে আনা যায়।

এই বাস্তবতার ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, বাংলাদেশে গত এক দশকে ফল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং ধাননির্ভর কৃষি থেকে ধীরে ধীরে বহুমুখীকরণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টনেরও বেশি ফল উৎপাদিত হয় এবং আম, কাঁঠাল, কলা, পেয়ারা, লিচু, আনারস ও পেঁপে উৎপাদনে দেশ দক্ষিণ এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এবং আম উৎপাদনেও অন্যতম প্রধান দেশ। একই সঙ্গে ড্রাগন ফল, অ্যাভোকাডো, স্ট্রবেরি ও বারোমাসি আমের মতো নতুন ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে, যা কৃষকের আয়, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। তবে উৎপাদনের তুলনায় সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এখনও অনেক পিছিয়ে থাকায় মৌসুমে দাম পড়ে যায় এবং মৌসুম শেষে ভোক্তাকে বেশি মূল্য দিতে হয়।

ফলে উৎপাদন কারণ ফল দ্রুত নষ্ট হওয়া কৃষিপণ্য, যার পানির পরিমাণ ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ হওয়ায় সংগ্রহের পরও এনজাইম ক্রিয়া ও অণুজীবের আক্রমণে দ্রুত মান নষ্ট হয়। তাই পোস্ট হারভেস্ট ব্যবস্থাপনাকে এখন উৎপাদনেরই অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে ও ভোগের ব্যবধান কমাতে আধুনিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এখন অত্যন্ত জরুরি। খাদ্য অপচয় কমানো, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রতিষ্ঠা, শিল্প ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের জন্য পোস্ট হারভেস্ট ব্যবস্থাপনা আজ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশে ফল সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ মূলত উৎপাদনের পরবর্তী ধাপে সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, হর্টেক্স ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী আমের ২০ থেকে ২৪ শতাংশ, কলার ৩০ থেকে ৩৭ শতাংশ, কাঁঠালের ৩৮ থেকে ৪৩ শতাংশ, আনারসের ২৭ থেকে ৪৩ শতাংশ, পেয়ারার ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ, পেঁপের প্রায় ৩৯ শতাংশ এবং লিচুর ১৭ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হয়, আর সামগ্রিকভাবে ফল ও সবজির ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাজারে পৌঁছানোর আগেই হারিয়ে যায়। সিপিডির নীতিগত আলোচনায় বছরে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের তথ্য উঠে এসেছে, যার আর্থিক ক্ষতি বিলিয়ন ডলারের সমান।

দুর্বল কোল্ড চেইন, অপ্রতুল প্যাকেজিং ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এই ক্ষতির মূল কারণ। ফাও এর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে ফল ও সবজিতে খাদ্য ক্ষতির হার ২৫ শতাংশেরও বেশি, যা বাংলাদেশে আরও গুরুতর প্রভাব ফেলে। এর ফলে কৃষকের আয় কমে যায়, ভোক্তার ব্যয় বাড়ে এবং পরিবেশগত চাপও বৃদ্ধি পায়। তাই ফল সংরক্ষণ এখন শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং খাদ্যনীতি, অর্থনীতি ও পরিবেশ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রকৃত সাফল্য তখনই অর্জিত হবে যখন উৎপাদিত ফলের সর্বোচ্চ অংশ নিরাপদে সংরক্ষিত হবে, মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে বাজারজাত হবে এবং দেশের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

ফল সংগ্রহের পর থেকেই শুরু হয় তার সংগ্রহোত্তর জীবনের নতুন অধ্যায়, যেখানে সঠিক ব্যবস্থাপনাই নির্ধারণ করে ফলটি কতদিন নিরাপদ ও মানসম্মত থাকবে। গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও ফলের শ্বাসপ্রশ্বাস, কোষীয় বিপাক, এনজাইমের কার্যক্রম ও রাসায়নিক পরিবর্তন চলতে থাকে, যার ফলে এটি ধীরে ধীরে পাকে এবং একসময় নষ্ট হয়ে যায়। এই বাস্তবতার কারণে আধুনিক কৃষিতে পোস্ট হারভেস্ট ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন