ঢাকায় অপরাধ থামছে না, নিয়ন্ত্রণে গতি নেই

প্রথম আলো প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:২৬

রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, ব্যস্ত সড়ক কিংবা বাসার সামনে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। হামলার শিকার হচ্ছে পুলিশও। ঘটনার পর মাঠপর্যায়ে কিছু আসামি গ্রেপ্তার হলেও, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পেশাদার এসব সন্ত্রাসী চক্রের নিয়ন্ত্রক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না পুলিশ। ফলে অপরাধ থামছে না, বরং নতুন নতুন ঘটনা ঘটেই চলেছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ২১ মাসে ঢাকা মহানগরে খুনের মামলা হয়েছে ৫৯৭টি। এর মধ্যে ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’।


একই সময়ে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে ৭৭৩টি। যদিও ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা অনেক বেশি বলে পুলিশ কর্মকর্তারাই মনে করেন। কারণ, অধিকাংশ ঘটনাতেই ভুক্তভোগীরা মামলা করেন না। কেউ কেউ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মামলা না নেওয়ার অভিযোগও আছে।


ঢাকায় আলোচিত ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর একটিরও তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে অনেক আসামি জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে যুক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও কম নয়। গত ২১ মাসে কেবল ঢাকাতেই পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১৪২টি।


আলোচিত না হলে ব্যবস্থা নেই


রাজধানীতে ছিনতাই, ডাকাতি ও খুনের ঘটনা বাড়লেও অপরাধী চক্রগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে খুব একটা অচেনা নয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) করা সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, রাজধানীতে ১১৭টি পেশাদার অপরাধী দল সক্রিয় রয়েছে। এসব দলের সদস্যসংখ্যা ১০ থেকে ২০ জনের মধ্যে। ভাড়াটে খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত এসব চক্রের সদস্যদের নাম-পরিচয় পুলিশের এই তালিকায় রয়েছে। এসব অপরাধী দলগুলোকে কারা পৃষ্ঠপোষকতা দেন, তাঁদের নামও রয়েছে। ঢাকায় আলোচিত খুন-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে এসব দলের সম্পৃক্ততাও পাচ্ছে পুলিশ।


সর্বশেষ ১৬ জুন আদাবরে এক বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ব্যাপক আলোচনায় আসে। ঘটনাটি আলোচনায় আসার পর ছিনতাইকারী ধরতে মাঠে নামে পুলিশ। ওই দিনই অভিযানে গিয়ে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলামসহ দুজন ছিনতাইকারীদের হামলার মুখে পড়েন। ছিনতাইকারীরা তাঁদের কুপিয়ে আহত করে। এ সময় পুলিশের গুলিতে দুজন আহত হন। পরে জানা গেল, হামলাকারীরা ডিএমপির তালিকায় থাকা মোহাম্মদপুর-আদাবরকেন্দ্রিক ‘কবজিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের সদস্য। ডিএমপির তালিকাতেও এই দলের বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কোনো ঘটনা গণমাধ্যমে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় হয় না। ফলে পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী চক্রগুলো একের পর এক ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পাচ্ছে। পুলিশের কাছে অপরাধীদের তথ্য থাকার পরও কীভাবে তারা সক্রিয় থাকে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে মোহাম্মদপুরের আলোচিত আরও একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায়। গত ৩১ মে ভোরে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পর নূরজাহান রোডের বাসার ফটকে মা-মেয়েকে চাপাতির মুখে জিম্মি করে মালামাল ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ ও র‍্যাব সক্রিয় হয় এবং দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও