বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও সংস্কৃতিচর্চার ‘আকাল’

প্রথম আলো আবুল মোমেন প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ২১:৫৮

আইনের শাসনের নিজস্ব গতি রয়েছে। তবে আমাদের দেশে এত মামলা এবং মামলার এত জট যে এক জীবনে কোনো মামলার নিষ্পত্তি হতে চায় না। তাতে ঘটনার শিকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাঁর স্বজনদের ভোগান্তি ও ক্ষতি—উভয়ই বাড়তে থাকে। অপরাধীরও আইনের ভয়, আদালতের প্রতি সমীহ কমে যায়।


অপর দিকে ভুক্তভোগীদের আইন ও আদালতের প্রতি আস্থা কমতে থাকে। ফলে সমাজে ন্যায়বিচারের চেয়েও দ্রুত বিচারের প্রত্যাশা তৈরি হয়। আস্থা এতটাই কমেছে যে পাছে অপরাধী বেকসুর না হলেও হালকা শাস্তিতে পার পেয়ে যায়, তাই রাজপথে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিই উঠতে থাকে।


বিভিন্ন সময়ে আমরা এমন দাবি উঠতে দেখেছি। সর্বস্তরের জনগণের চাপের সঙ্গে সুর মিলিয়ে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, এমনকি সরকারি মহলের পক্ষ থেকেও এ রকম দাবি জোরালোভাবে উঠতে দেখা যায়। আদালতের পক্ষে এমন সম্মিলিত চাপ অগ্রাহ্য করা মুশকিল হয়ে পড়ে। জনদাবির কাছে ন্যায়বিচার অনেক সময় নতি স্বীকার করে।

সম্প্রতি অতীতের একটি হত্যা মামলার দৃষ্টান্ত টেনে একজন বিচারক বলেছেন যে তখন গণমাধ্যম ও গণদাবির চাপ এতটাই প্রবল ছিল যে দ্রুত অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দণ্ড দেওয়া হয় এবং তা কার্যকর হয়েছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি ঠিক হয়নি।


উল্লেখ্য, আমরা কোনো অপরাধে লঘু শাস্তির পক্ষে ওকালতি করছি না, পল্লবীর শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ক্ষেত্রে তো নয়ই। এমনকি দ্রুত বিচার ও শাস্তিরও ঢালাও বিরোধিতা করছি না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, বিচারপ্রক্রিয়া যেন তার সব ধাপ সঠিকভাবে পূরণ করে এবং শাস্তি বা রায় যেন আইনের সবদিক বিবেচনার পরই ঘোষিত হয়। পরে যেন ভুল হওয়ার জন্য আফসোস ও অনুশোচনা করতে না হয়।


প্রায়ই পত্রিকায় বিনা বিচারে দীর্ঘ কারাবাসের খবর পাওয়া যায়। এমনিতেই কারাবাস একজন মানুষের সামাজিক সুনাম নষ্ট করে, এরপর দীর্ঘ অনুপস্থিতি তাঁকে অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, যেগুলো সংশোধনের বা পূরণের কোনো উপায় থাকে না।


আমরা জানি, এখানে মানুষ দাবি তুলে, মানববন্ধন বা সমাবেশ করে এ দেশের উদ্যান বাঁচিয়েছে, প্রাকৃতিক স্থানে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ ঠেকিয়েছে এবং অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তিও নিশ্চিত করেছে। কিন্তু কথা হলো, ছোটখাটো থেকে গুরুতর বিষয়গুলো যথাযথ দপ্তরের মাধ্যমে সঠিক আইন ও নিয়মের ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে না কেন?


প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা এবং দুর্নীতির কারণে সঠিক কাজ যথাসময়ের মধ্যে হয় না। অর্থাৎ এখানেও রয়েছে মানুষের আস্থা হারানোর সংকট। এই প্রশাসন কখনোই ক্ষমতার পক্ষে কাজ করার ঔপনিবেশিক অভ্যাস ছাড়তে পারেনি। ক্ষমতার এই প্রাধান্য ও দাপট অব্যাহত থাকলে এবং ক্ষমতাসীনের এই দাপটকে কেউ আইন ও নীতির কারণে উপেক্ষার সাহস দেখালে যদি খেসারত দিতে বাধ্য হন, তাহলে প্রশাসন তো আপসকামী হবেই! আপস হবে ক্ষমতার সহযোগী ভাগীদার হয়ে, দুর্নীতি ও অপরাধে জড়িয়ে। তার চরম দৃষ্টান্ত এ দেশ বারবার দেখেছে।
এ রকম বাস্তবতায় নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় সমাজ স্বাভাবিকভাবেই তার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দেবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ রকম সর্বাত্মক জনপ্রতিক্রিয়ার চাপ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষেও উপেক্ষা করা সম্ভব হয় না। তাতে ন্যায়বিচার ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত মিলতেও পারে, কিন্তু ভুলের আশঙ্কা বাড়ে।


তা ছাড়া এই প্রক্রিয়ায় যদি একটি সমাজ প্রতিকার আদায়ে সফল হতে থাকে, তাহলে আমাদের ভাবনা-বিশ্লেষণ অতি সরল হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দেয়। পল্লবীর শিশুটির মামলায় নিম্ন আদালতে প্রদত্ত সর্বোচ্চ শাস্তির রায় যদি উচ্চ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়িতও হয়, তাহলে কি সমাজ থেকে রাতারাতি ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, হত্যা কমে যাবে? আলোচিত ঘটনাটির পরপরই আরও শিশু ও নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সংবাদপত্রের খবর ও থানার তালিকার বাইরে এ রকম ঘটনা আরও ঘটে, এমনকি হত্যার ঘটনাও চাপা পড়ে যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও