যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ জাহাজ ভাঙা শিল্পের নিরাপদ মডেল, বাংলাদেশ কবে হবে?
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সমুদ্রসৈকতে একটি স্ক্র্যাপ এলএনজি ট্যাংকার কাটার সময় জমে থাকা অতি-বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন শ্রমিকের করুণ ও আকস্মিক মৃত্যু আবারও উন্মোচিত করেছে দেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পের চরম নিরাপত্তা ঘাটতি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার করুণ চিত্র। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে যাওয়া শ্রমিকের রক্ত আর বাতাসের বিষাক্ত ধোঁয়া কেবল একটি মর্মান্তিক ঘটনামাত্র নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত কাটিং ব্যবস্থারই এক অনিবার্য ফল।
বিশ্বব্যাপী যেখানে পুরোনো জাহাজের ভাঙারি থেকে বিপুল পরিমাণ ইস্পাত ও পুনরায় ব্যবহারযোগ্য কাঁচামালের জোগাড় করা হচ্ছে, সেখানে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের সৈকতে এটি পরিণত হয়েছে একটি মরণফাঁদে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের উন্নত দেশগুলোয় এই শিল্পটি কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা অপকৌশলের শিকার নয়, বরং পরিবেশ ও শ্রমিকের সুরক্ষায় শতভাগ আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পরিচালিত একটি শিল্পে রূপ নিয়েছে।
উন্নত ও অনুন্নত ব্যবস্থার এই মৌলিক পার্থক্য বুঝতে হলে প্রথমেই অনুধাবন করতে হবে একটি পুরোনো জাহাজের ভেতরে কী কী বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান ও ধাতু লুকায়িত থাকে এবং সেগুলো ঠিক কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছিল। সমুদ্রের চরম লোনা পানি ও প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে জাহাজের বিশালাকার ইস্পাত কাঠামোকে রক্ষা করতে দীর্ঘকাল ধরে ‘রেড লেড’ নামক সিসাযুক্ত প্রলেপ ও অ্যান্টি-রাস্ট প্রাইমার ব্যবহার করা হতো।
- ট্যাগ:
- মতামত
- জাহাজ ভাঙা শিল্প