পে-স্কেল নিয়ে এত উচ্চবাচ্য কেন?
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়বে—এটি কোনো উৎসবের সংবাদ হওয়ার কথা নয়। এটি রাষ্ট্রের একটি নিয়মিত প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত। মূল্যস্ফীতি বাড়বে, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে, সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা কমবে—তখন নির্দিষ্ট সময় পর বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কমবেশি এভাবেই সরকারি বেতন কাঠামো সমন্বয় করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি এলেই যেন এক ধরনের রাজনৈতিক উৎসব শুরু হয়। কে ঘোষণা দিলেন, কখন ঘোষণা দিলেন, কত শতাংশ বাড়ল, কার আমলে হলো—এসব নিয়ে এমন উচ্চকিত প্রচার চলে যে মনে হয় রাষ্ট্র তার কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছে না, দান-খয়রাত করছে।
এখানেই প্রশ্নটি জরুরি: পে-স্কেল নিয়ে এত উচ্চবাচ্য কেন?
বাংলাদেশে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে অতিরিক্ত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১৪ লাখ কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনার বর্তমানে রাষ্ট্রীয় বেতন-পেনশন কাঠামোর আওতায় আছেন।