সুন্দরবনে ‘কোণঠাসা’ দস্যুবাহিনী
গেলো ১৭ মে সুন্দরবনের ‘ছোট সুমন বাহিনী’ আত্মসমর্পণ করে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৩৯ বনদস্যু ও জলদস্যুকে আটক করে কোস্টগার্ড। কোস্টগার্ড বলছে, এখনও সক্রিয় আরও ৬ থেকে ৮টি দস্যু বাহিনী। তবে অভিযান অব্যাহত থাকায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে সুন্দরবনের দস্যুরা।
কোস্টগার্ডের তথ্য বলছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অভিযানে ৪২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ২৫০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৯৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, একটি ককটেল, একটি টেলিস্কোপ এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৩৯ জন বনদস্যু ও জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। তাদের কবল থেকে ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, সুন্দরবনে সারা বছর সমানভাবে জলদস্যুতা না হলেও ইলিশ আহরণ, মাছ ধরার মৌসুম ও মধু সংগ্রহের সময় দস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যায়। কোস্ট গার্ড বলছে, সুন্দরবনে যখন জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি ও বনজীবীদের আনাগোনা বাড়ে, তখনই দস্যুদের তৎপরতাও বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ইলিশ আহরণ, মাছ ধরার মৌসুম ও মধু সংগ্রহের সময় অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং চাঁদাবাজির ঘটনা বাড়ার ঝুঁকি থাকে। বর্তমানে সরকার ঘোষিত তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় বনজীবীদের প্রবেশ সীমিত রয়েছে। ফলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও কমে এসেছে। কোস্টগার্ডের দাবি, ধারাবাহিক অভিযান, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের কারণে সুন্দরবনের সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- দস্যু বাহিনীর প্রধান