মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! প্লিজ! একটু শুনুন!

কালের কণ্ঠ গোলাম মাওলা রনি প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ১০:১৫

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে যেভাবে দল-মত-নির্বিশেষে লোকজন ছুটে যাচ্ছে, তা আমাকে যারপরনাই বিস্মিত করে। বিশেষ করে সম্পাদক পরিষদের নেতারা তাঁর সঙ্গে দেখা করে যেভাবে ইউনূস জামানায় নির্যাতিত সাংবাদিকদের কারামুক্তি এবং মিথ্যা মামলার হয়রানি বন্ধের নিবেদন জানালেন, তা নানা কারণে ব্যতিক্রম এবং ঐতিহাসিকও বটে।


এর আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদকবৃন্দ কোনো প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে আবেদন-নিবেদন করেননি, বিশেষত দল বেঁধে গিয়ে রাজনৈতিক হয়রানির হাত থেকে বাঁচার জন্য রাজনৈতিক নেতা ও সরকারপ্রধানের কাছে সাহায্য প্রার্থনা নজিরবিহীন। অন্যদিকে বিষয়টি ঐতিহাসিক এবং আগামী দিনের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্টও হতে চলেছে।


প্রধানমন্ত্রী যদি সম্পাদকবৃন্দের প্রত্যাশা পূরণে সহায়তা করেন, তবে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক মহলের সাহায্য ও সহযোগিতা তিনি আগামী দিনে নিশ্চিতভাবে পাবেন। অন্যদিকে তিনি যদি অবহেলা করেন অথবা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় গড়িমসির ঘটনা ঘটে, তবে সম্পাদকরা অপমান বোধ করবেন এবং তাঁরা সম্ভবত সম্মিলিতভাবে আগামী দিনে প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনো দাবিদাওয়া পেশ করবেন না। আর সম্পাদকদের যদি সম্মানবোধ টনটনে না হয়, তবে তাঁরাও শেখ হাসিনার জামানার অনুগত সাংবাদিকদের কাতারে নেমে আসবেন।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! প্লিজ! একটু শুনুন!আমি ব্যক্তিগতভাবে বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী মানুষের সঙ্গে বিরোধে জড়াই না। বিশেষ করে মহামতি চাণক্য, হারপাগাস, ইমাম শাফী (রহ.) প্রমুখ পণ্ডিত ব্যক্তি যখন রাজা কর্তৃক অপমানিত হয়েছিলেন এবং কাউকে কিছু না বলে নীরবে দূরে গিয়ে বুদ্ধির খেলা খেলেছিলেন এবং সেই খেলার পরিণতিতে যেভাবে একটি সাম্রাজ্যের পতন এবং আরেকটি সাম্রাজ্যের উত্থান হয়েছিল, তা জানার পর আমি আমার ব্যক্তিগত জীবনে বুদ্ধিমান মানুষকে যমের মতো ভয় পাই—জ্ঞানীদের দেবতুল্য মনে করি এবং প্রজ্ঞাবানদের মাথায় করে রাখি।


জ্ঞান, বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা শুধু মানবের নয়, পৃথিবীর মহাকালের সম্পদ। তলোয়ারের চেয়ে কলমের শক্তিমত্তা বিধাতা কর্তৃক স্বীকৃত। বিদ্বানের কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়ে পবিত্র—এই আপ্তবাণী শুনে বড় হওয়া মানুষ পদে পদে বিপদগ্রস্ত হয়, তখন তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কলমের বিরুদ্ধে লাঠি, বোমা, পিস্তল লেলিয়ে দেয় এবং কলম ভেঙে খোন্তা, কোদাল, তীর, ধনুক আবাদে মনোযোগী হয়।


আমাদের নিকট অতীতে শেখ হাসিনা ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উত্থান ও পতনের নেপথ্যে কিভাবে বিদ্যাবুদ্ধি ও কলম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে তার কিছু উদাহরণ দিয়েই পরবর্তী প্রসঙ্গে আলোচনা শুরু করব। শেখ হাসিনাকে নেতৃত্বের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য কলমসৈনিকরা সেই ১৯৮১ সাল থেকেই বঙ্গবন্ধু, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম ইত্যাদি বিষয় দেশের পত্রপত্রিকায় লিখে সভা-সমিতিতে বলে গল্প-উপন্যাস লিখে বা নাটক-সিনেমায়, পোস্টার, গ্রাফিতিতে এমনভাবে জীবন্ত করে তুলেছে, ফলে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ক্ষমতা লাভের পর অনুগত সাংবাদিক, তাঁবেদার বুদ্ধিজীবী সৃষ্টি করে তাঁর দুর্দিনে জ্ঞানী-গুণীদের পদে পদে অপমান করতে থাকেন।


উল্লিখিত অবস্থায় কলমসৈনিকরা অনেকে লেখালেখি বন্ধ করে দেন এবং শেখ হাসিনার প্রতিপক্ষের কলমসৈনিক ও বুদ্ধিজীবীদের রসদ জোগাতে থাকেন। ফলে ধীরে ধীরে তিনি সম্মান-মর্যাদা ও আকর্ষণ হারিয়ে শুধু একজন ক্ষমতাধর মানবীরূপে আমজনতার বিরক্তি, ক্রোধ ও ঘৃণার বস্তুতে রূপান্তরিত হতে থাকেন এবং চূড়ান্তভাবে পতনের মুখোমুখি হন।


ড. ইউনূসের উত্থান ও পতন ছিল শেখ হাসিনার চেয়েও নাটকীয় ও মারাত্মক। তাঁর পরিণতিও শেখ হাসিনার চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিন্দনীয় হতে চলেছে শুধু তাঁদের জন্য যাঁদের কলম একসময় তাঁর পক্ষে কালি ঝরিয়েছে। ড. ইউনূসকে বিশ্বমানব তৈরি এবং জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ধারাবাহিকভাবে যাঁদের জ্ঞান-বুদ্ধি-প্রযুক্তি কোনো রকম স্বার্থ ছাড়া অবিরতভাবে কাজ করেছে তাঁদের কাউকে ইউনূস স্মরণ করেননি। উল্টো তিনি এমন সব মানুষকে কাছে ডেকে নিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে বসিয়েছেন তাতে অনেকেই অপমান বোধ করেছেন। ফলে যে কলম ও কালি একসময় ড. ইউনূস তৈরি করেছিল, তা দ্রুত বুমেরাং হয়ে ইউনূস জামানার দফারফা ঘটাতে থাকে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও