জনস্বার্থের বিষয়গুলো জনস্মৃতি থেকে হারিয়ে যায় কেন

প্রথম আলো উম্মে ওয়ারা প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ১৫:০৮

আমাদের সমাজে নিজেদের স্মরণশক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে মজা করে ‘গোল্ড ফিশ মেমোরি’র কথা বলা হয়। কথাটি দিয়ে বোঝানো হয় যে গোল্ডফিশ বা সোনালি মাছের মতো আমাদের স্মরণশক্তিও খুব স্বল্প সময়ের হয়ে থাকে। কথিত আছে, এই মাছ নাকি প্রতি তিন সেকেন্ড পর ঘটে যাওয়া ঘটনা ভুলে যায়।


গুগলে খুঁজে দেখলাম, তথ্যটি একেবারেই সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে গোল্ডফিশের স্মৃতিব্যাপ্তি কমপক্ষে তিন মাসের হয়ে থাকে, যা সর্বোচ্চ কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। কিন্তু কেন আমরা নিজেরাই নিজেদের স্মৃতিশক্তি নিয়ে এমন উপহাস করি?


এর অন্যতম কারণ হলো, অঘটনঘটনপটিয়সী এই বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকে। তাই লক্ষ করলেই দেখা যায়, গুরুতর জনস্বার্থসম্পর্কিত বিষয়ও তীব্র আলোচনার জন্ম দেওয়ার অল্প কিছুদিন পরই তা জনস্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়, হারিয়ে যায় অগণিত নতুন খবরের ভিড়ে। 


এভাবে একক বা সম্মিলিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খবর ভুলে যাওয়ার প্রবণতাকে বলা হয় ‘কালেকটিভ বা সোশ্যাল অ্যামনেশিয়া’ অর্থাৎ ‘সমষ্টিগত বা সামাজিক বিস্মৃতি’ (রাসেল জ্যাকবি, সোশ্যাল অ্যামনেশিয়া, ১৯৭৫)। তবে এই স্মৃতিভ্রষ্টতাকে কেবল জনমনোযোগের ক্ষণস্থায়িত্ব হিসেবে ভাবাই যথেষ্ট নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ, যাকে বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটের লেন্সে দেখার সুযোগ আছে বলে মনে করি।  


মার্কিন অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যান্থনি ডাউন্স তাঁর ১৯৭২ সালের ‘ইস্যু অ্যাটেনশন সাইকেল’ বা ‘সমস্যা-মনোযোগ চক্র’ ধারণার মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে কীভাবে কোনো নির্দিষ্ট জনসচেতনতামূলক সমস্যা জনসাধারণের নজরে আসে, তীব্রতা পায় এবং একসময় জনস্মৃতি থেকে হারিয়েও যায়; বিশেষত যখন সমস্যার সমাধান অনিশ্চিত বা দীর্ঘমেয়াদি হয়।


বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই তত্ত্বের প্রয়োগ দেখা যায়, যেখানে নানা অনিয়ম-অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান, বিশ্বাসযোগ্য বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা পদক্ষেপ অনুপস্থিত থাকে। 


► বাংলাদেশে সামাজিক বিস্মৃতির সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে আমরা হামের প্রাদুর্ভাব এবং এ পর্যন্ত চার শতাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনাটি উল্লেখ করতে পারি। 


► সমষ্টিগত বিস্মৃতি বিভিন্ন অন্যায়কে শুধু জনস্মৃতি থেকে মুছেই ফেলে না, বরং কখনো কখনো সঠিক জ্ঞান বা সত্য জানার অধিকারও কেড়ে নেয়।


► এটা কেবল জনগণের মনোযোগ বা জ্ঞানগত সীমাবদ্ধতার ফল নয়; বরং এই বিষয়ে রাষ্ট্রের অপ্রতুল প্রতিক্রিয়াই নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।


অপর দিকে ফরাসি দার্শনিক মরিস হালবওয়াচসের ভাষায়, সামাজিক স্মৃতি প্রতিষ্ঠানগতভাবে পুনরুৎপাদিত না হলে তা টিকে থাকতে পারে না (অন কালেকটিভ মেমোরি, ১৯৯২)। ফলে রাষ্ট্রের জন্য বিতর্কিত ও অসুবিধাজনক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নীরবতা বা দুর্বল প্রতিক্রিয়া সেই ঘটনাগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্মৃতিতে রূপ নিতে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে। 


এই পরিপ্রেক্ষিতে জবাবদিহির অভাব একটি দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি করে, যেখানে পুনরাবৃত্ত ঘটনার পরও জনমত ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যায় এবং ভুলে যাওয়াই একটি স্বাভাবিক সামাজিক প্রতিক্রিয়ায় পরিণত হয়। 


২.


বাংলাদেশে এই সমষ্টিগত বা সামাজিক বিস্মৃতির সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে প্রথমত আমরা হামের প্রাদুর্ভাব এবং এ পর্যন্ত চার শতাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনাটি উল্লেখ করতে পারি। 


মহামারির মতো হামের সংক্রমণের অন্যতম কারণ হিসেবে জানা যায়, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ৫০ শতাংশ টিকা ওপেন টেন্ডার মেথডে (উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি) কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফ ও তাদের অংশীদারেরা তখন উদ্বেগ জানায় যে এই প্রক্রিয়ায় সামগ্রিক ক্রয়প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। 


এসব উদ্বেগ সত্ত্বেও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়, ফলে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব ঘটে বলে অভিযোগ আছে। শুধু তা–ই নয়, ২০২৫ সালেই টিকাবাহকদের ৯ মাস বেতন না পাওয়া, প্রায় তিন মাসের মতো স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতিতে থাকা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায়ে যেতে ব্যবহৃত গাড়িতে তেল না থাকার মতো ঘটনাগুলোও ব্যাপক হারে টিকাপ্রাপ্তির সুযোগকে ব্যাহত করেছে।    


এ ছাড়া ২০২৪ সালের বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছাড়াও একাধিক কারণে ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত এমআর টিকার ক্যাম্পেইন হয়নি। এই বছরের মার্চের শেষ দিকে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৫৯ শতাংশ শিশু হামের টিকা পেয়েছে। পরে এই তথ্য সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। (প্রথম আলো, ২ মে, ২০২৬) 


এসব ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের অদূরদর্শিতা ও অব্যবস্থাপনার ফল ভোগ করছে শত শত নিষ্পাপ শিশু এবং তাদের পরিবার। পত্রিকার পাতায় উঠে এসেছে করুণ কাহিনি, যেখানে যমজ দুই বোনের একজনের চলে যাওয়ার ঘটনা যেমন পেয়েছি; আবার পেয়েছি বিয়ের ১১ বছর পর আরাধ্য সন্তানের মৃত্যুর খবর! 

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও