শ্রমিকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে

যুগান্তর ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৬, ১০:০২

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে গত ১ মে বিশাল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের এ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। তার এ উপস্থিতি সভায় আগত মানুষদের উজ্জীবিত করে। তারা ধৈর্য সহকারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের সমস্যাগ্রস্ত শ্রমিক-কর্মচারী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষের কল্যাণে তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।


তিনি বলেন, বিগত দিনগুলোয় যেসব শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো আবারও পর্যায়ক্রমে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, শ্রমিকরা ভালো থাকলে, বাংলাদেশ ভালো থাকবে। একইভাবে কৃষক ভালো থাকলে, বাংলাদেশ ভালো থাকবে। তিনি আরও বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকার আমলে দেশের শিল্পকারখানাগুলো পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে দিয়ে দেশকে আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকারে ২০৩৪ সালে মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপির আকার ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি কথা সর্বমহলে প্রচণ্ড আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেছেন, ‘আজ থেকে আপনাদের খাতায় ‘শ্রমিক’ হিসাবে আমার নাম লিখবেন। আমি আপনাদেরই লোক।’ তার এ বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং জাতীয় জীবনে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি। অতীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীদের অনেকেই শ্রমিকদের কল্যাণে নানা কথা বলেছেন; কিন্তু কেউই নিজেকে শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত বলে আখ্যায়িত করেননি। শ্রমিকদের দলভুক্ত ভাবার মধ্যে তাদের সমস্যায় নিজেকে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। একজন মানুষ চাইলেই নিজেকে কোনো সম্প্রদায়ভুক্ত ভাবতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজের এলিট শ্রেণিভুক্ত হয়েও নিজেকে খেটে খাওয়া মানুষের অন্তর্ভুক্ত বলে ভেবেছেন। এটি নিশ্চিতভাবেই তার চারিত্রিক উদারতার লক্ষণ। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমান নিজের নিরাপত্তা ও প্রটোকলের তোয়াক্কা না করেই গণমানুষের কাতারে যেভাবে নিজেকে শামিল করে চলেছেন, তা প্রশংসাযোগ্য। এমনকি তিনি অফিসের পিওন-কর্মচারীর সঙ্গেও সাধারণ মানুষের মতোই মিশেছেন।


একজন মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কোনো না কোনো কাজে ব্যাপৃত থাকেন। সেটা হতে পারে কায়িক পরিশ্রম, আবার হতে পারে মানসিক পরিশ্রম। যেহেতু একজন মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কোনো-না-কোনোভাবে শ্রমের সঙ্গে যুক্ত, তাই বস্তুতপক্ষে প্রত্যেক মানুষই শ্রমিক বা শ্রমজীবী; কিন্তু আমরা অনেকেই এ সত্য স্বীকার করতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থেকেও নিজেকে শ্রমিক হিসাবে ভাবতে পেরেছেন, এটি তার উদারতার লক্ষণ বটে।


বাংলাদেশ একসময় কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ ছিল। সেই অবস্থা থেকে এখন আমরা শিল্পনির্ভর অর্থনীতির দিকে ধাবিত হচ্ছি। বিশেষ করে ’৭০-এর দশকের শেষের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার তৈরি পোশাক রপ্তানি শুরু হয়। এখন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। জিয়াউর রহমানের আমলেই প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক এবং জনশক্তি রপ্তানি খাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশ দ্রুত শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এটি কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না যে, আমরা এখনো শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত করতে পারিনি। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন খাত চমৎকারভাবে বিকশিত হয়েছে।


কিন্তু শ্রমিক শোষণ এসব প্রতিষ্ঠানেই সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। যেসব শিল্পকারখানার মালিক রাজনৈতিক দলের অনুসারী, তাদের প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক শোষণ সবচেয়ে বেশি। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে শ্রম আইন মোটামুটি পালন করা হলেও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে এসবের কোনো বালাই নেই। কর্মরত শ্রমিকদের যে মজুরি দেওয়া হয়, তা দিয়ে তাদের সংসার চালানো সম্ভব হয় না। সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করে দিনশেষে তারা যে মজুরি নিয়ে বাড়ি ফেরে, তা দিয়ে নিত্যদিনের ব্যয় মেটানো সম্ভব হয় না। তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা। তারাই সবচেয়ে নির্যাতিত ও অধিকারবঞ্চিত এবং মজুরি বৈষম্যের শিকার।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও