ইরান যুদ্ধকে পাকিস্তান যেভাবে পুনরুত্থানের হাতিয়ার বানাল

প্রথম আলো এম সাখাওয়াত হোসেন প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ১২:০৯

একটি ধারণা প্রচলিত ছিল, পাকিস্তান রাষ্ট্রটি প্রায় ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রের’ পথে হাঁটছে। এমনকি পাকিস্তানি পাসপোর্ট বা ভিসা কোনো ভ্রমণকারীর কাগজে থাকলে উন্নত বিশ্বে যাতায়াতেও কড়াকড়ি শুরু হয়েছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই পাকিস্তান আজ অভাবনীয় কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


প্রশ্ন জাগতে পারে—কীভাবে হঠাৎ পাকিস্তান এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাল যে দেশটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, এমনকি পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের কাছেও বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠেছে? এ বিষয় অবশ্যই গভীর ও ব্যাপক বিশ্লেষণের দাবি রাখে। বাংলাদেশসহ সমগ্র উপমহাদেশে পাকিস্তানের এই সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বর্তমানে যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে।


প্রায় এক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান থেকে আশানুরূপ ফল আদায় করতে পারছেন না। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ। ইরান ও ওমান সম্মিলিতভাবে এই প্রণালির মালিকানা দাবি করছে। এই পথে পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াত এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির ওপর একধরনের ‘টোল’ বা শুল্ক বসানো হয়েছে।


স্মরণযোগ্য যে বিশ্বের মোট জ্বালানির ২০ শতাংশ এই পথেই বাহিত হয়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানির একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই আমদানি করে। চীনও জ্বালানি আমদানিতে ইরান, সৌদি আরব ও রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল, যার বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে আসে। ফলে হরমুজ প্রণালির এই সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এই সংকটাবস্থা নিরসনে আজ পুরো বিশ্ব মরিয়া।


যুদ্ধাবস্থার এক মাস পার হয়ে যাওয়ার পরও যেখানে আশার আলো দেখা যাচ্ছিল না, বরং দিন দিন উত্তেজনা বাড়ছিল—ঠিক সেই মুহূর্তে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের আবির্ভাব অনেকটা ‘সারপ্রাইজ’ বা স্বস্তির বার্তার মতো এসেছে। অনেকের কাছেই এটি আশ্চর্যের বিষয় যে বর্তমানে ‘চীনঘেঁষা’ পাকিস্তান কীভাবে মার্কিন প্রশাসনের কাছেও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।


প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তান সব সময় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভূরাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। ষাটের দশকে আইয়ুব খানের আমল থেকে মার্কিন সামরিক তৎপরতায় পাকিস্তানের সংযোগ ঐতিহাসিক। বিশেষ করে শীতল যুদ্ধের সময়ে আলোচিত ইউ-২ বিমান এবং এর পাইলট ফ্রান্সিস গ্যারি পাওয়ার্সের (পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালাত যুক্তরাষ্ট্র) সেই গোয়েন্দা কাহিনি আজও স্মর্তব্য।


ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আফগান জিহাদের সময় থেকে আজ অবধি পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনীতির অগ্রভাগে রয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এবং মার্কিন পেন্টাগনের দীর্ঘদিনের মিত্রতা রয়েছে। অন্যদিকে চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের বড় কৌশলগত অংশীদারত্ব—চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর দেশটির আরেকটি বড় ভূরাজনৈতিক সফলতা। ঐতিহাসিক ঘটনা এই যে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ার সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেছিল।


পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক। এর পশ্চিমে আফগানিস্তান ও ইরান, উত্তরে কারাকোরাম ও খুঞ্জেরাব পাসের মাধ্যমে চীন এবং জাহেদান-তেহরান রেলপথের মাধ্যমে ইরান যুক্ত। পাশাপাশি মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে সৌদি আরব, তুরস্ক ও জর্ডানের সঙ্গে পাকিস্তানের গভীর সামরিক ও সামাজিক সম্পর্ক বিদ্যমান। অনেক আগে থেকেই সৌদি তেলক্ষেত্রের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানের সৈন্য নিয়োজিত ছিল।


বর্তমানে নতুন ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর আওতায় পাকিস্তানের প্রায় এক ডিভিশন সেনা ও যুদ্ধবিমান কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এটি মূলত ইরানের দিক থেকে আসা কোনো হুমকি মোকাবিলায় সাজানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সংকটে লক্ষণীয় যে ইরান যেমন সৌদি আরবে হামলা করেনি, সৌদি আরবও সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। এই নিরপেক্ষতা উপসাগরীয় দেশগুলোর মাঝে একধরনের আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও