অভ্যন্তরীণ পর্যটন বৃদ্ধি ও টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ

ঢাকা পোষ্ট সামশাদ নওরীন প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪০

পর্যটনের দিক দিয়ে বাংলাদেশ ছোট কিন্তু অপার সম্ভাবনার দেশ। সুন্দরবনের গহীন অরণ্য থেকে শুরু করে কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, সিলেটের অপরূপ চা বাগান থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের মেঘে ঢাকা পাহাড়, এভাবেই দেশের বুকে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ।


অন্যদিকে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে উপজীব্য করে পর্যটন শিল্প তরান্বিত হতে পারে। যদিও দেখা যায় প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি নিজের দেশ না ঘুরে বিদেশে ঘুরতে গিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করেন। অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে শক্তিশালী করতে হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।


অর্থনীতি যখন সমৃদ্ধ হয়, মানুষের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ আসে। আর সেই অর্থের একটি বড় অংশ যায় ভ্রমণ ও পর্যটনে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড্যানি রডরিকের গবেষণা বলছে, একটি পরিবারের মোট আয়ের যে অংশ মৌলিক চাহিদা মেটানোর পরে বাঁচে, যাকে বলা হয় ‘ডিসপোজেবল ইনকাম’ বা বিবেচনাযোগ্য আয়। সেই আয় বাড়লে মানুষ বিনোদন ও ভ্রমণে বেশি ব্যয় করতে শুরু করেন।


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুই দশকে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশের ভেতরে ভ্রমণকারীর সংখ্যাও বেড়েছে, যা এই তত্ত্বকে সমর্থন করে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের যে দেশগুলোয় একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে উঠেছে, সেসব দেশে অভ্যন্তরীণ পর্যটন সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হয়েছে। কারণ মধ্যবিত্তরা একদিকে ভ্রমণের সামর্থ্য রাখেন, অন্যদিকে তারা অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী।


অর্থনীতিবিদ ও পর্যটন গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, একটি দেশের মাথাপিছু আয় বাড়লে পর্যটন শিল্পে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। তবে এই সম্পর্কটি কেবল সরলরৈখিক নয়, এর পেছনে রয়েছে বেশকিছু গভীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রক্রিয়ার প্রভাব। পর্যটন অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পথ চিহ্নিত করেছেন যেভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি সরাসরি পর্যটনে জনঅংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে।


প্রথমত, আয় বাড়লে মানুষ পরিবহন থেকে শুরু করে আবাসন এবং বিনোদনের খরচ বহন করতে সক্ষম হন। বাংলাদেশে বাস, ট্রেন বা লঞ্চে দূরপাল্লার ভ্রমণ এখন আর বিলাসিতা নয়। আয় বাড়ার ফলে এই বাধা কমেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন হোটেল, মোটেল, রিসোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পর্যটকরা বেড়াতে গিয়ে সেখানে থাকছেন এবং বিনোদন পাচ্ছেন।


দ্বিতীয়ত, শিক্ষার হার বৃদ্ধি পর্যটনের সাথে অঙ্গাঙ্গিকভাবে জড়িত। জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক তাকেশি ইয়ানাগাওয়া তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, শিক্ষিত মানুষের নতুন জায়গা দেখার, ইতিহাস জানার এবং ভিন্ন সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার আগ্রহ বেশি থাকে।


এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে পিকনিক, ফিল্ড ট্রিপ-এ যাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক। ফলে বেশি সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষিত হওয়ার প্রভাবে শুধু প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই তাদের পর্যটনে উৎসাহিত করে না বরং তাদের পরিবারকেও বেড়াতে যেতে উদ্বুদ্ধ করে। অন্যদিকে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী পর্যটনকে প্রাতিষ্ঠানিক বা তাদের দৈনন্দিন চাহিদার অংশ হিসাবেই পরিগণিত করেন ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে শিক্ষার বিস্তার ঘটলে পর্যটনের চাহিদাও বাড়ে।


তৃতীয়ত, নগরায়ণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেলে মানুষ মানসিক চাপ কমাতে ছুটিতে ভ্রমণকে বেছে নেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) গবেষণা অনুযায়ী, নগরে বসবাসকারী কর্মজীবী মানুষ গ্রামের মানুষের তুলনায় গড়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি পর্যটনে অংশ নেন।


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এক দশকে দেশের মাথাপিছু আয় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। একই সময়ে কক্সবাজার, সাজেক ও সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়, সেই প্রবৃদ্ধিকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নীতিগত সহায়তার সাথে যুক্ত করতে হবে।


বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পর্যটন গন্তব্যগুলোয় যাতায়াত, মানুষের জ্ঞানের অভাব এবং মানসম্মত পর্যটন উপাদান সরবরাহ না করার ফলে এই শিল্প এখনও বড় সমস্যার সম্মুখীন। যেমন কক্সবাজার বা বান্দরবানের পথে ভাঙা রাস্তা ও যানজট পর্যটকদের আগমনকে নিরুৎসাহিত করে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও