যুদ্ধ-সংঘাত ও জলবায়ু সংকট, শান্তি ফিরবে কীভাবে

ঢাকা পোষ্ট ড. মো. রফিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৭

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, যেখানে অনিশ্চয়তা, প্রতিযোগিতা ও বহুমাত্রিক সংকট একে অপরকে জটিল করে তুলেছে। শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যে উদারপন্থী আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা গভীর চ্যালেঞ্জের মুখে।


আদর্শবাদ অনেকটা ফিকে হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তববাদ আবারও রাষ্ট্রের আচরণ ব্যাখ্যার প্রধান কাঠামো হিসেবে ফিরে এসেছে। দেশ, অঞ্চল ও বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রগুলো নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে প্রাণী হত্যার মতো জঘন্যতম কাজ করে চলছে।


বর্তমান বাস্তবতায় রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, ইরানের ওপর আক্রমণ কিংবা আফ্রিকার গৃহযুদ্ধগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, নৈতিকতা নয় বরং কৌশলগত স্বার্থই প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ক্রমশ ‘শক্তির রাজনীতি’-কেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।


ইমানুয়েল ক্যান্টের Perpetual Peace বা উড্রো উইলসনের আদর্শবাদী দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাজার থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।


১৬৪৮ সালের ওয়েস্টফালিয়া চুক্তির মধ্যে দিয়ে যে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয় তা আজ ‘Responsibility to Protect (R2P)’ বা মানবিক হস্তক্ষেপের কথা বলে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। বড় ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো বাণিজ্যের কথা বলে অনেক দেশের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে, যেখানে নিয়ম বা আইনের কোনো স্থান নেই।


বিশ্বব্যবস্থায় কর্তৃত্ব দাবি শাসনের বিস্তার হয়েছে। বহু দেশে নির্বাচন থাকলেও তা প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক নয়, বরং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাদের পছন্দমত শাসক ক্ষমতায় বসায়। এতে পরাজিত হয় জনগণ, আর বিঘ্নিত হয় দেশের স্বার্থ ও উন্নয়ন।


রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধী মতের দমন, এই তিনের সমন্বয়ে একটি হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যা গণতন্ত্রের বাহ্যিক রূপ ধরে রেখে ভেতরে কর্তৃত্ববাদকে শক্তিশালী করছে।


নিওরিয়ালিস্ট দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নির্ভর করে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর ইচ্ছার ওপর। বর্তমান সময়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অকার্যকর। শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, বাণী প্রদান করা ছাড়া এ সংস্থাগুলো কিছু করছে না। একইভাবে ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কর্মাস-এর মতো প্রতিষ্ঠানও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। ফলে বহুপাক্ষিকতার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।


হেজেমোনিক স্ট্যাবিলিটি থিওরি অনুযায়ী একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র বৈশ্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নীতিতে এক ধরনের দ্বৈততা লক্ষ্য করা যায়। জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন থেকে সরে আসা, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কর্মাসকে চ্যালেঞ্জ করা, কিংবা বাণিজ্যযুদ্ধ, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবর্তে প্রতিযোগিতাকে উসকে দেয়। একইসঙ্গে চীনের উত্থান নতুন এক ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূচনা করেছে, যা বিশ্বকে নতুন ধরনের ঠান্ডা যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


বিশ্ব এক নতুন সংকটে পতিত তা হলো জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি। যুদ্ধ, সহিংসতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কোটি কোটি মানুষ স্থানচ্যুত হচ্ছে। এই বাস্তুচ্যুতি শুধু মানবিক সংকট নয়; এটি নতুন সংঘাতেরও জন্ম দেয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও