বিচার দূরে, দায় খোঁজাই শুরু হয়নি
জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতিবাচক ঘটনার দায় নিরূপণ কিংবা করণীয় ঠিক করতে সরকার চাইলে ‘তদন্ত কমিশন’ গঠন করে সে বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে পারে। ১৯৫৬ সালের ‘দ্য কমিশনস অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট’-এ সরকারকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
গত আড়াই-তিন মাসে অতি সংক্রামক হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে দুই শতাধিক শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিদিনই আরো মৃত্যুর খবর আসছে।
শিশুর জন্মের পর থেকে ছয় ধরনের নিয়মিত টিকা না পেয়ে দেশের আরো অন্তত ৩০ লাখ শিশু ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে গেছে বলে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এর জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাবেক অন্তর্বর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত ভুল সিদ্ধান্ত ও টিকা অব্যবস্থাপনাই দায়ী বলে কালের কণ্ঠসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে তথ্য মিলেছে। অন্তর্বর্তী সরকারপক্ষ থেকে আবার খুবই দুর্বল কণ্ঠে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ওপরও কিঞ্চিত দোষ চাপানোর সুর শোনা যাচ্ছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের তরফ থেকে অবশ্য দুই আমলকেই দায়ী করা হচ্ছে।
প্রায় মহামারি আকার ধারণ করা হামের পাশাপাশি টিকাবঞ্চিত লাখ লাখ শিশুর মধ্যে অনেক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার পেছনে সরাসরি শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর তীব্রভাবে ছোড়া হচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে বিস্তর প্রতিবেদনও হয়েছে, হচ্ছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা এবং সরকারকে একটি লিগ্যাল নোটিশ; পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে একটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে। এত কিছুর পরও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
- ট্যাগ:
- স্বাস্থ্য
- প্রাদুর্ভাব
- হাম রোগ