মবোক্রেসির প্রভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়ে উঠছে
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে একটি অন্যতম সমস্যা হিসেবে মবোক্রেসির বিষয়টি মোটেই এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। এ বিষয়টি অনেকের মনেই এক ধরনের আতঙ্ক, উদ্বেগ ও সামাজিক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।
মবোক্রেসি শব্দটি নতুন হলেও এর সামাজিক বাস্তবতা মোটেও নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এর বিস্তার, স্বাভাবিকীকরণ এবং জনমনে এর গভীর মনস্তাত্ত্বিক অভিঘাত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একে নিছক বিচ্ছিন্ন সহিংসতা বলে উড়িয়ে দেওয়ার আর সুযোগ নেই। এটি এখন একটি সামাজিক ব্যাধি, রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয় এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।
মবের ভীতি বা শঙ্কা বাংলাদেশের প্রতিটি স্তরের নাগরিকদের আক্রান্ত করেছে। এখনো আমরা সেই আক্রান্ত পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসতে পারিনি। শঙ্কা এবং ভীতির পরিস্থিতি প্রতিটি সময়ে আমাদের মনকে নাড়া দিচ্ছে। এ বিষয়টি অনুধাবন করতে আমি একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে লেখাটির ভেতরে প্রবেশ করতে চাই।
২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে কৌতূহলবশত আমি একজন সহকর্মীকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি ইদানীং কেন ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে আসেন না? উত্তরে তিনি জানালেন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর যেকোনো সময় ক্যাম্পাসে মব হতে পারে। এতে পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে খারাপ হলে গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটতে পারে!
এমন শঙ্কায় তিনি ব্যক্তিগত গাড়ি এড়িয়ে চলছিলেন বলে আমাকে জানালেন। এমনকি এ বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের প্রতিটি সদস্য উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠায় থাকেন। তার শিশু সন্তানও শঙ্কা নিয়ে বাসায় অপেক্ষায় করে। অথচ আমাদের এই ক্যাম্পাসে কেমালমতি শিক্ষার্থীরাই পড়াশোনা করে।
প্রকৃত শিক্ষার্থীরা কি গাড়ি ভাংচুর করতে পারে? আমার এখনো বিশ্বাস হয় না। তারপরও বিশ্বাস করতে হয়। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের বদৌলতে অসংখ্য মবের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। আর সেগুলো হয়েছে কিছু উগ্র এবং মূল্যবোধ বিবর্জিত অপরাধীদের দ্বারা।
আমরা লক্ষ করেছি অভ্যুত্থানের পরপরই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের দোসর তকমা দিয়ে শিক্ষক লাঞ্ছনা কিংবা চাঁদাবাজি নিত্যকার বিষয় হয়ে উঠেছিল। এসব কারণে শিক্ষকদের মধ্যেও এক ধরনের শঙ্কা কাজ করে প্রতিটি মুহূর্তে। তারা স্বাধীনভাবে পাঠদান করতেও শতভাগ আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারছেন না।
- ট্যাগ:
- মতামত
- মব ভায়োলেন্স