সুশাসন ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এজেন্টিক এআই

যুগান্তর ড. শাহ জে মিয়া প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৮

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিবর্তনীয় ধারায় জেনারেটিভ এআই থেকে এজেন্টিক এআইতে উত্তরণ কেবল একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়; বরং এটি সুশাসন ও জনপ্রশাসনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের একটি প্রধান অনুঘটক। প্রথাগত জেনারেটিভ এআই মূলত নির্দেশ বা প্রম্পটনির্ভর একটি ব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নতুন কনটেন্ট বা সমস্যার সমাধান তৈরি করতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার মতো জটিল ক্ষেত্রে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে আইনি বাধ্যবাধকতা এবং নাগরিক অধিকার জড়িত, সেখানে কেবল তথ্য সৃজন যথেষ্ট নয়। এখানে প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে; বিভিন্ন ডিজিটাল টুলের সমন্বয় ঘটাতে পারে এবং প্রতিকূল পরিবেশে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। এজেন্টিক এআই এই শূন্যস্থান পূরণ করে সুশাসনকে একটি নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া থেকে সক্রিয় ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করতে পারে।


সুশাসনে এজেন্টিক এআই-এর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে হলে এর সঙ্গে জেনারেটিভ এআই-এর মৌলিক পার্থক্যগুলো বিশ্লেষণ করা জরুরি। জেনারেটিভ এআই (যেমন : ChatGPT) মূলত ‘রিঅ্যাক্টিভ’ বা প্রতিক্রিয়ামূলক; এটি ব্যবহারকারীর প্রম্পটের জন্য অপেক্ষা করে এবং কাজ শেষে পরবর্তী নির্দেশের জন্য থেমে থাকে। অন্যদিকে এজেন্টিক এআই হলো, ‘প্রোঅ্যাক্টিভ’ বা স্বতঃপ্রণোদিত। এটিকে একটি চূড়ান্ত লক্ষ্য প্রদান করা হলে এটি নিজেই সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ধাপগুলো নির্ধারণ করে এবং স্বাধীনভাবে কাজ সম্পন্ন করে ফলাফল বের করে আনে। প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে যদি একজন কর্মকর্তাকে কোনো আবেদন যাচাই করতে হয়, জেনারেটিভ এআই হয়তো সেই আবেদনের একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে দিতে পারে। কিন্তু এজেন্টিক এআই সেই আবেদনটি গ্রহণ করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেটাবেজ থেকে সংশ্লিষ্ট নাগরিকের তথ্য যাচাই করবে, কোনো ঘাটতি থাকলে সরাসরি নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুছিয়ে কর্মকর্তার টেবিলে উপস্থাপন করবে। এ ক্ষমতাটি মূলত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের (LLM) সঙ্গে ‘রিজনিং’ বা যৌক্তিক বিচার ক্ষমতা এবং ‘টুল ইন্টিগ্রেশনের’ সমন্বয়ে অর্জিত হয়ে থাকে।


বিভিন্ন উন্নত রাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের জনসেবা ব্যবস্থায় এজেন্টিক এআই-এর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে। সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণগুলো সুশাসনের ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির বাস্তব কার্যকারিতা প্রমাণ করে। এস্তোনিয়া তার ‘বুরোক্র্যাট’ সিস্টেমের মাধ্যমে একটি আন্তঃসংস্থা নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এখানে একজন নাগরিক কেবল একটি এআই এজেন্টের কাছে পাসপোর্ট নবায়নের অনুরোধ করলেই সেই এজেন্ট পর্দার আড়ালে পুলিশ, বর্ডার কন্ট্রোল এবং নাগরিক তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজটি সম্পন্ন করে দেয়। সিঙ্গাপুরের ‘লাইফএসজি’ বা ‘আস্ক জেমি’ নাগরিকদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা ১৫ মিলিয়নেরও বেশি প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোর চাপ প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। যুক্তরাজ্যের পুলিশবাহিনীতে ‘ববি’ নামক একটি এজেন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ ও সাধারণ জিজ্ঞাসার ৮২ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্য তাদের ‘মাইআলাস্কা’ পোর্টালে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জটিল কর নির্ধারণ ও পারমিট নবায়নের কাজগুলো নাগরিকদের জন্য সহজতর করছে।


নিউইয়র্ক সিটির মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি রেললাইন পরিদর্শনে এজেন্টিক এআই ব্যবহার করে যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত ও মেরামতের ব্যবস্থা করছে, যা শহরের অবকাঠামো রক্ষায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। সিঙ্গাপুর ‘Ask Jamie/LifeSG' সিস্টেমের মাধ্যমে প্রোঅ্যাক্টিভ নাগরিক সেবা দিচ্ছে, যা কল সেন্টারের কাজের চাপ ৫০ শতাংশ হ্রাস করেছে। যুক্তরাজ্য তাদের পুলিশি সেবা ও অভিযোগ গ্রহণের জন্য ‘Bobbi’ নামের সিস্টেম ব্যবহার করছে, যার সাহায্যে ৮২ শতাংশ জিজ্ঞাসার সফল স্বয়ংক্রিয় সমাধান হচ্ছে। পর্তুগাল ‘Gov.pt Assistant’ সিস্টেমের মাধ্যমে ২,৩০০ সেবার বহুভাষিক গাইড প্রদান করে সেবার প্রবেশযোগ্যতা বৃদ্ধি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ‘MTA Rail Inspector’ সিস্টেম দিয়ে রেল অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ করছে, যা ত্রুটি শনাক্তকরণের গতি বাড়িয়েছে। এ বৈশ্বিক প্রবণতা নির্দেশ করে, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ শহর তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে এআই এজেন্ট যুক্ত করবে। এটি কেবল প্রযুক্তির বিস্তার নয়, বরং সরকারের বৈধতা ও নাগরিকদের আস্থা বৃদ্ধির একটি কৌশলগত হাতিয়ার।


দেশে প্রশাসনিক কার্যক্রমে সুশাসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের অস্পষ্টতা, যাকে প্রায়ই ‘ব্ল্যাক বক্স’ হিসাবে অভিহিত করা হয়। এজেন্টিক এআই এ সমস্যা সমাধানে ‘গ্লাস বক্স’ বা স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো উপহার দেয়। এ মডেলে এআই-এর প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও যুক্তি একটি নিখুঁত অডিট ট্রেইল বা ডিজিটাল প্রমাণ হিসাবে সংরক্ষিত থাকে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো মনে করে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার বা ‘হটস্পট’গুলো আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব। এটি দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘প্রিডিক্টিভ অডিটিং’-এর পথ প্রশস্ত করে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও