জ্বালানি-দুশ্চিন্তা ও তথ্যের প্রবাহ

ঢাকা পোষ্ট ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী প্রকাশিত: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৫৩

এই মুহূর্তে দেশ এক অদ্ভুত জ্বালানি-আতঙ্কে ভুগছে। ‘অদ্ভুত’ কারণ কোনো কিছু থেমে নেই। গাড়ি চলছে, দূরপাল্লার বাস, ট্রেন, সরবরাহ বহনকারী বাল্কহেড নৌযান চলছে। বাজার সরগরম, কোথাও তেমন অভাব-অভিযোগ নেই, কেবল দাম বিষয়ে অস্বস্তি ছাড়া।


তা এই অস্বস্তি বাংলার ঐতিহ্যগত। কিন্তু বিপদ দেখা দেবে যখন আপনি কোনো ফিলিং স্টেশনের পাশ দিয়ে যাবেন। দেখা যাবে, সারি সারি মোটরসাইকেল, গাড়ি ইত্যাদি দাঁড়িয়ে আছে, তেল নেওয়ার জন্য। যে-সে সারি নয়, মাইলখানেক লম্বা সারি কিংবা বাইকের বিশাল জটলা দেখা যাচ্ছে।


এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানা যাচ্ছে, তেলের কোনো ঘাটতি নেই, সরবরাহ কম হলেও, কিংবা হরমুজ প্রণালিতে স্মরণকালের বৃহত্তম যুদ্ধ-পরিস্থিতি বজায় থাকলেও। সরকার বলছে, শুধু আগামীতে যাতে বিপদে না পড়তে হয়, সেইজন্য সাবধানী র‍্যাশনিং চলছে।


আসন্ন ঈদ উপলক্ষে গৃহের মধ্যবিত্ত কর্তা যেমন বাজারে সদা-তৎপর নজর রাখেন, বা সব ‘বাজে খরচ’ বন্ধ রাখেন, তেমনি। কিন্তু আমজনতা ভীত হয়ে পড়েছে। বাইকে তেল থাকবে না, কিংবা চলতে চলতে থেমে যাবে এবং তখন ফিলিং স্টেশনে তেল থাকবে না - এই চিন্তা মধ্যবিত্ত করোটিতে ভয়ানক ভূমিকম্প দেয়, দুশ্চিন্তিত ক্লস্ট্রোফোবিয়া দেয়।


এই ফোবিয়া জান্তব, ভয়াবহ, অস্থিতিশীল এবং মানুষকে ভীষণ অস্থির করে তোলে। এই অস্থিরতা আমরা ইদানীংকালের ফিলিং স্টেশনে মারামারিতে দেখেছি। একইসাথে তৎপর হয়েছে বাংলার বিখ্যাত সুযোগসন্ধানী ও মজুতদারেরাও। তারা ছলে-বলে-কৌশলে তেল মজুত করছে-একই বাইক বারবার তেল নিতে ফিলিং স্টেশনে যাচ্ছে, তেলের লরি থেকে মাঝপথেই তেল উধাও হচ্ছে, ‘তেল নাই’ লেখা ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে কর্মকর্তারা দেখছেন তেল ঠিকই আছে। এই ঘটনাসমূহই বাঙালি চিত্তকুলের ভীষণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত প্রপঞ্চের মূলে। 


স্বাভাবিক যে, মাঠে-ঘাটে-আফিসে তেল-চিন্তাই বাঙালির ঘুম কেড়ে নিয়েছে। চালকেরা অস্থির হয়ে উঠছেন, ঢাকা শহরে তেল নিতে ২-৪ ঘণ্টা, কখনো আবার ৪-৫ ঘণ্টা লাইন দিতে হচ্ছে। ঈদের আগে লাইন ছোট ছিল, তেলের পরিমাণ বেধে দেওয়া ছিল। ঈদযাত্রা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সরকারের পক্ষ নানা খবরদারি ও নজরদারি ছিল।


ফলে ঈদযাত্রা নিশ্চিন্ত থেকেছে, যদিও সুপ্রচুর দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি (প্রায় ৩০০ নিহত) এই ঈদযাত্রাকে দুঃখাতুর করেছে, কিন্তু জ্বালানি-দুশ্চিন্তিত রাখেনি। ঈদের পর, র‍্যাশনিং উঠে গেল, যে যত চাচ্ছে তত পাচ্ছে, কিন্তু বাইকে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।


মফস্বলে গিয়ে দেখেছি, গ্রামাঞ্চলের প্রধান বাহন ও গ্রামীণ অর্থনীতির কমিউনিকেশন ব্লাডলাইন এখন বাইক। শহরে ও ফিলিং স্টেশনে বাইকের বিশাল বহর তেল নিতে বদ্ধ-পরিকর। সেখানে আবার জায়গা-বুঝে সরকারি বাইকের সারি, দলীয় বাইকের সারি এবং সাধারণ বাইকের লম্বা সারি দৃশ্যমান। যদিও ব্যক্তিগত গাড়িতে ট্যাংক ভরে তেল নেওয়া যাচ্ছে, কিন্তু বিশাল লম্বা সারি যেকোনো চালক ও গাড়িমালিককে চিন্তিত রাখছে।


স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, আমাদের তরল জ্বালানি-অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন-আছে কতটুকু। আমরা কত আমদানি করি, কত ব্যবহার করি, প্রতি মাসে গড়ে কত ব্যবহার হয়, আমাদের ডিজেলের চাহিদা কত, আমদানির কতখানি অপরিশোধিত বা ক্রুড, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তার কী পরিমাণ শোধন হয় প্রতিদিন, তারপর বিতরণের ডিলারদের কাছে কতখানি যায়, আমাদের পেট্রোল কতখানি কিনতে হয় আর কতখানি গ্যাস-কনডেনসেট থেকে তৈরি করা যায়, একইকথা অকটেনের জন্যেও প্রযোজ্য, অকটেন কতখানি আমদানি করতে হয়, নাকি নিজেরা বানাতে পারি, ইত্যাদি।


এই প্রায় ১২টি কলাম ও ৬টি সারি সমৃদ্ধ তথ্যের সারণি আমরা কোথাও দেখি না। সরকারের কাছে কি আদৌ এই ডেটা আছে? যা আছে সেটা কি আদৌ পরিশ্রুত ডেটা? এটা কি দৈনিক ডেটা, নাকি ২/৩ দিনের গড় ডেটা? আসলে জ্বালানি-খাতের ডেটা কোথায় পাওয়া যাবে?


এই প্রশ্নগুলো নিয়েই কিছুদিন আগে কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ অধ্যাপকদের সাথে এক ঘরোয়া আড্ডায় কথা হচ্ছিল। এই তথ্যসারণিটি না-থাকায় আমাদের সিদ্ধান্তগুলো তথ্য-ভিত্তিক হচ্ছে না। ‘ভয় নাই, জ্বালানি আছে’-এ কথা সত্যি কিনা, কিংবা ‘জ্বালানি থাকলে, ফিলিং স্টেশনে লাইন কেন’ এই প্রশ্নের সত্যিকার জবাব, অথবা ‘দাম কমালে মজুতদারি বা চোরাচালানি বন্ধ হবে’-এই সিদ্ধান্ত সঠিক কিনা-এসব যাচাইয়ের জন্য যে-তথ্য থাকা দরকার ছিল—রিয়েল টাইম এনার্জি ফ্লো ডেটা- সেটা আপাতদৃষ্টিতে আমাদের নাই।


কেন নাই? আমার মনে পড়ে গেল, তিন বছর আগে, গত সরকারের আগের সরকারের সময়কার জ্বালানি মন্ত্রীকে বুয়েটের জ্বালানি ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, আমাদের একটা তথ্যভাণ্ডারের প্রয়োজন আছে যা রিয়াল-টাইমে সারা দেশের জ্বালানি-প্রবাহকে মনিটর করবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও