You have reached your daily news limit

Please log in to continue


একাত্তরের প্রথম গণহত্যার সাতকাহন

এই নিবন্ধ যেদিন পাঠকের হাতে পৌঁছাবে সেদিনের কথা আমরা কতজন নিজেদের মন, মস্তিষ্ক এবং অস্থিমজ্জায় ধারণ করি। অথচ মাত্র এক রাতের কয়েক ঘণ্টার সামরিক অভিযানে যেভাবে নির্বিচারে ১০ হাজার নিরপরাধ সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবী, আমলা, ছাত্র-ছাত্রী, পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনীসহ পথচারীদের হত্যা করা হয়েছে, তার নজির সভ্য দুনিয়াতে তো দূরের কথা—অসভ্য দুনিয়ার প্রাগৈতিহাসিক জামানায়ও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে আসলে কী হয়েছিল? কেন এবং কী কারণে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয়ে এসেছিল। মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর মাস্টারপ্ল্যানে সেনাবাহিনী রাজারবাগ পুলিশ ফাঁড়ি, ইপিআর বা পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সদর দপ্তর পিলখানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, রোকেয়া হল এবং ইকবাল হল, যার বর্তমান নাম সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়। ঠিক একই কায়দায় তারা পুরান ঢাকায় তাণ্ডব চালায়।

শুধু ঢাকা শহরে কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডবে ১০ হাজার মানুষকে হত্যার পরও নরপশুরা থেমে থাকেনি। তারা তৎকালীন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে হামলা চালিয়ে সব বিদেশি সাংবাদিকদের পত্রপাঠ বিদায় করে। ঘটনার সময় একমাত্র ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং অতি কৌশলে হোটেলের মধ্যে পালিয়ে থাকেন এবং পরবর্তীতে পুরো ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করার পর সারা দুনিয়ায় তোলপাড় হয়ে যায়।

উল্লিখিত অবস্থায় বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় এবং সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। কালের বিবর্তনে আমরা এখন কত কথা বলি—কত গালগল্পে চায়ের টেবিলে ঝড় তুলি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব, রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের মাহাত্ম্য বর্ণনার জন্য গল্প-কবিতা লিখে নোবেল পুরস্কারের আশায় পীর ফকিরদের দরবারে শিরনি দিই। অথচ মাত্র ৫৫ বছর আগে গাঙ্গেয় বদ্বীপের বাসিন্দারা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল—একজন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার বাঁশির সুরে মন্ত্রমুগ্ধের মতো নিজেদের বুক, মাথা, শরীর হানাদারদের বুলেটে ঝাঁঝরা করার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিল তা আমাদের ভূখণ্ডের কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে যেমন ঘটেনি তেমনি পৃথিবীর অন্য কোনো দেশেও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

ভারত বিভাগ এবং পাকিস্তান আন্দোলনে বাঙালি মুসলমানদের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। লাহোর প্রস্তাব—নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠন এবং মুসলমানদের জন্য আলাদা ভূমির চিন্তা প্রথম বাঙালির মাথায় এসেছিল। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, আবুল হাসিম, খাজা নাজিমুদ্দীন, নওয়াব আলী খান, কাজী আবুল ওয়াদুদ, মওলানা আকরম খাঁ, লিয়াকত আলী খান, মোহাম্মদ আলী, নওয়াব সলিমুল্লাহসহ অসংখ্য মুসলিম নেতৃবৃন্দ একটি বৃহত্তর বাংলার সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানকে একত্র করে যে রাষ্ট্রের কাঠামোর কথা বলছিলেন তা চূড়ান্ত রূপ পায় লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে।

মুসলমান নেতৃবৃন্দ যেভাবে বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করেছিলেন এবং ব্রিটিশ সরকারকে বাধ্য করেছিলেন বাংলা ও আসাম নিয়ে একটি প্রদেশ তৈরি করার জন্য, যার রাজধানী ছিল ঢাকা। কিন্তু পশ্চিম বাংলার কলকাতাকেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের বিরোধিতার কারণে ব্রিটিশরা বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার পর পূর্ববঙ্গের মুসলিম নেতৃবৃন্দের মন-মস্তিষ্কে মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র ভূমি এবং পাকিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ববঙ্গের স্বায়ত্তশাসনের যুক্তি প্রবল হতে থাকে। ফলে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য শেরেবাংলা যে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন সেখানে স্পষ্টতই পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের কথা ছিল।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন