‘কম কষ্টে চাল আনতে যাইনি, চেয়ারম্যান আমার গলা চেপে ধরেছে’

কালের কণ্ঠ নড়াইল প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১৬:২৮

‘আমার স্বামী মেলাই অসুস্থ। তিন বছর ধরে ক্যান্সার রোগে ভুগছে। রাত্রিবেলা বিছানায় একটু ঘুমায় না। শরীরের শিরাডা ধরে টাটায়। যেটুক সময় বিছানায় ঘুমায়, মাথাডা উঁচু করে ঘুমায়। কম কষ্টের জন্যি চাউল আনতি যাইনি।’ কথাগুলো বলছিলেন নড়াইলের নলদি ইউনিয়নের বাসিন্দা সাফিয়া বেগম (৩৪)।


তার অভিযোগ, গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের চাল নিতে নলদি ইউনিয়ন পরিষদে যান সাফিয়া বেগম।

এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাকে ধাক্কা দেন এবং একপর্যায়ে গলা চেপে ধরেন। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি।


সাফিয়া বেগমের বাড়ি নড়াইল লোহাগড়া উপজেলার নলদি ইউনিয়নের চাকুলিয়া গ্রামে। ১৬ বছর বয়সে জাহাঙ্গীর সঙ্গে সামাজিকভাবে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর থেকে অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটান সাফিয়া। গত তিন বছর হলো স্বামী জাহাঙ্গীর ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। অন্যের বাড়ি কাজ করে এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে চার সদস্যের সংসার পরিচালনা করেন সাফিয়া। বড় ছেলে পারভেজ (১৭) ইটভাটায় কাজ করেন এবং মেয়ে রহিমা খানম মিঠাপুর মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।


সাফিয়া বেগম আরো বলেন, ‘আমার মেয়েটা সেয়ানা হয়েছে। মেয়েডারে ঈদের কাপড় কিনে দিতে পারিনি। কম কষ্টের জন্যি মানষির কাছে যাইনি। বাবার বাড়ি থেকে ৪ কানি জাগা কিনে দিছে, সেই জাগায় থাকি। অল্প বয়সে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে অভাব অনটনের সংসার। চাল আনতে চেয়ারম্যানের কাছে গেলে দুই কেজি চাল দেয়। দুই কেজি চাল দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আমারে গলা ধরে ধাক্কা দেয়, এরপর গলা চেপে ধরে রাখে।’


ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শী চাকুলিয়া গ্রামের পলি পারভিন বলেন, ‘আমাদের চাল আনতে যেতে বলা হয়েছে, আমরা গিয়েছি। আমার সঙ্গে সাফিয়া চাল আনতে গিছিল। সাফিয়ার স্বামীর ক্যান্সার হয়েছে সেটি সবাই জানে। মহিলাডারে যেভাবে গলা চাপে ধরেছে এটা আমরা সবাই দেখেছি। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে ও গলা টানে ছিঁড়ে ফেলার হুমকি দেন। সেখানে অনেক লোক উপস্থিত ছিল। একজন মহিলাকে গায় হাত দেওয়া এটা ঠিক হয়নি।’

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও