সুযোগ না সতর্কতা: এই সময়ে টাকা কোথায় রাখা লাভজনক?

জাগো নিউজ ২৪ সাইফুল হোসেন প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে অনেক বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীর মনে এখন একটি বড় প্রশ্ন— এই সময়ে কি বিনিয়োগ করা উচিত, নাকি ক্যাশ ধরে রাখা ভালো? এই প্রশ্নের সরল কোনো একক উত্তর নেই। কারণ অর্থনৈতিক সংকট, যুদ্ধ বা বাজারের অস্থিরতার সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা, বিনিয়োগের সময়সীমা এবং লক্ষ্য—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবুও ইতিহাস, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই ধরনের সময়ে সাধারণত একটি Balanced Strategy সবচেয়ে কার্যকর হয়—অর্থাৎ পুরোপুরি ক্যাশে থাকা নয়, আবার অন্ধভাবে সব টাকা বিনিয়োগ করাও নয়।


প্রথমে বুঝতে হবে কেন এই ধরনের সময়ে ক্যাশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময় সাধারণত বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়ে যায়, ব্যবসা ও বিনিয়োগে ধীরগতি দেখা দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ করে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে ভূরাজনৈতিক সংঘাতের সময় বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায় এবং বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ সম্পদ বা নগদ অর্থের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর মূল কারণ হলো ক্যাশ বা নগদ অর্থ সবচেয়ে বেশি লিকুইড বা তরল সম্পদ—যা প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবহার করা যায়। যদি হঠাৎ করে ব্যবসায় ক্ষতি হয়, চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয় বা জরুরি কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন ক্যাশই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করে।


ব্যক্তিগত অর্থনীতিতে একটি প্রচলিত নিয়ম হলো—কমপক্ষে ৩ থেকে ৬ মাসের জীবনযাত্রার খরচের সমপরিমাণ জরুরি তহবিল ক্যাশ হিসেবে রাখা উচিত। অনেক আর্থিক পরিকল্পনাকারী আবার অনিশ্চিত সময় বা অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে এই পরিমাণ আরও বাড়িয়ে ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত রাখার পরামর্শ দেন। কারণ এই সময়গুলোতে আয় কমে যেতে পারে, ব্যবসার নগদ প্রবাহ কমে যেতে পারে এবং হঠাৎ ব্যয় বাড়তে পারে। তাই সম্পূর্ণ বিনিয়োগে চলে গেলে অনেক সময় সংকটের সময় সেই বিনিয়োগ বিক্রি করতে হয় ক্ষতির মধ্যে।


তবে এর মানে এই নয় যে পুরো টাকা ক্যাশে রেখে দেওয়া উচিত। কারণ ক্যাশেরও একটি বড় সমস্যা আছে—মুদ্রাস্ফীতি। যদি মূল্যস্ফীতি বেশি হয়, তাহলে নগদ অর্থের ক্রয়ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কোনো দেশে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশ হয়, তাহলে এক বছরের মধ্যে আপনার হাতে থাকা টাকার প্রকৃত মূল্য প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়। তাই দীর্ঘমেয়াদে পুরো অর্থ ক্যাশে রেখে দিলে প্রকৃত সম্পদ বৃদ্ধি না হয়ে বরং কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই কারণেই অনেক অর্থনীতিবিদ বলেন, “Cash is safety in the short term, but investment is growth in the long term.”


ইতিহাসও একই ধরনের শিক্ষা দেয়। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট, ২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারি কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় প্রথম দিকে বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেলেও কয়েক বছরের মধ্যে অনেক বিনিয়োগ বাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজার সূচক S&P 500-কে ধরা যায়। কোভিড-১৯ মহামারির শুরুতে ২০২০ সালের মার্চ মাসে সূচকটি প্রায় ৩০ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে তা আবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। এই উদাহরণটি দেখায় যে যারা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ধরে রাখতে পারেন, তারা অনেক সময় সংকটের মধ্যেও ভালো রিটার্ন পেতে পারেন।


এই কারণে অনেক বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলের কথা বলেন—যাকে বলা হয় Diversification বা বিনিয়োগ বৈচিত্র্য। অর্থাৎ পুরো টাকা একটি জায়গায় না রেখে বিভিন্ন ধরনের সম্পদে ভাগ করে রাখা। উদাহরণ হিসেবে কেউ তার মোট সঞ্চয়ের একটি অংশ ক্যাশ বা স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয়ে রাখতে পারেন, একটি অংশ নিরাপদ সম্পদ যেমন স্বর্ণ বা সরকারি বন্ডে রাখতে পারেন, এবং বাকি অংশ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ যেমন শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে পারেন। এতে বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা হলেও পুরো পোর্টফোলিও একসাথে ঝুঁকির মুখে পড়ে না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও