বিশ্ব অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব

www.ajkerpatrika.com আব্দুর রহমান প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৭

মার্কিন-ইসরায়েলের আগ্রাসনের মাধ্যমে সূচিত ইরান সংঘাত বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতিতেও তীব্র প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর মাধ্যমে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি করেছে।


এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ইউরোপে জ্বালানি ব্যয় বাড়বে, এশিয়ায় (চীন, ভারত, জাপান) আমদানি খরচ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ, ইরান সংকট চলতে থাকলে এবং হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ কমতে পারে ২০ শতাংশের মতো। এর ফলে জ্বালানির দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০-১৩০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। এমনকি বিকল্প পথ, যেমন লোহিতসাগর ব্যবহার করলেও লজিস্টিক খরচ বাড়বে। যার ফলে, দীর্ঘ সময়ের জন্য জ্বালানির দাম ব্যাপক হারে উচ্চ থাকার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।


সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭০ থেকে ১১০ ডলারের বেশি উঠেছে। একবার তো ১২০ ডলার পর্যন্তও পৌঁছে গিয়েছি। কাতারের গ্যাস উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের তেল উৎপাদন দৈনিক ৬৭ লাখ ব্যারেল কমেছে। এতে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি দশমিক ৪ থেকে দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং জিডিপি দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।


আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে বলেছে, যদি বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০ শতাংশ পর্যন্তও বাড়ে, তাহলে মূল্যস্ফীতি দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় হু হু করে বেড়ে যাবে। বিশেষ করে, তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর ধাক্কা হবে ভয়াবহ।


এরই মধ্যে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো সিংহভাগ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলো এলএনজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। পাকিস্তানের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (চলতি হিসাবের ঘাটতি) গত দুই মাসে ১৫ শতাংশ বেড়েছে, যাতে বড় ভূমিকা রেখেছে ইরানে চলমান সংকট। এর ফলে দেশগুলোতে প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে, যা শিল্প উৎপাদন স্থবির করে দিয়েছে।


পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল (ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলো) বিশ্বের অন্যতম প্রধান সার উৎপাদনকারী কেন্দ্র। ইউরিয়া সারের দাম গত তিন সপ্তাহে টনপ্রতি ৪৫০ ডলার থেকে বেড়ে ৬৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সারের কাঁচামাল অ্যামোনিয়ার সরবরাহ বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ইথিওপিয়া ও কেনিয়ার মতো আফ্রিকান দেশগুলোতে সারের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় কৃষকেরা চাষাবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সতর্ক করে বলেছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই দেশগুলোতে খাদ্য উৎপাদন ১৫-২০ শতাংশ কমে যেতে পারে, যা দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়াবে। আর এই পরিস্থিতি তৈরিতেও ইরান সংকট গুরুতর ভূমিকা রেখেছে।


এই সংঘাত কেবল জ্বালানির বাজারেই অস্থিরতা তৈরি করেনি, ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নও ঘটিয়েছে। যার ফলে আমদানি সব পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। গত এক মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান আরও প্রায় ৪ শতাংশ এবং মিসরীয় পাউন্ডের মান প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজার থেকে গত এক মাসে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়েছেন, যা অর্থনীতির ওপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও