‘আমাকে বাঁচাও বাপ...খুব কষ্ট হচ্ছে’, তার জন্যও আইসিইউ জোগাড় হয়নি
ঢাকা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আলফাজ হোসেন চেষ্টা করেও হাসপাতালটির একটি আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা করতে পারেননি। তাঁর চোখের সামনেই ৪০ বছর বয়সী মো. জাহাঙ্গীর আলম মারা গেছেন।
আলফাজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘একিউট নেক্রোটাইজিং প্যানক্রিয়াটাইটিসে আক্রান্ত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। মারাত্মক শকে থাকা জাহাঙ্গীর আলমের জন্য আইসিইউ জরুরি ছিল। আইসিইউ পেলে হয়তো বেঁচে যেতেন। অথবা মৃত্যু হলেও এই ব্যক্তির মৃত্যুযন্ত্রণাটা একটু কম হতো। কিন্তু আমি পারিনি।’
গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন সাতক্ষীরার জাহাঙ্গীর আলম। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ই ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মারা যান তিনি।
জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুর খবর দিয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থী আলফাজ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মৃত্যুর আগে তিনি (জাহাঙ্গীর) বলেছিলেন—আমাকে বাঁচাও বাপ…খুব কষ্ট হচ্ছে…একটা আইসিইউ জোগাড় করো।’ ফেসবুক পোস্টে আলফাজ আক্ষেপ করে বলেছেন, তিনি কোনোভাবেই আইসিইউর ব্যবস্থা করতে পারেননি।
জাহাঙ্গীর আলম দালালের মাধ্যমে অনেক টাকাপয়সা খরচ করে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। তিনি দেশে নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারতেন না। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পেটের গুরুতর সমস্যায় প্রায় এক মাস ধরে পায়খানা বন্ধ ছিল। খাবার খেতে পারতেন না। চিকিৎসার নামে মালয়েশিয়াতেও দালালদের হাতে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। সেখানে টাকা খরচ করেও ঠিকমতো চিকিৎসা পাননি।
কথা হলো জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ১৮ বছর বয়সী আফজাল হোসেনের সঙ্গে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে সংসারের হাল ধরার জন্য ট্রাক্টর চালানো শুরু করেছেন আফজাল। জানালেন, তাঁর এক ভাইয়ের বয়স ১২ বছর। মা আছেন। তাঁর বাবা নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারতেন না দেশে। তারপর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাবার মালয়েশিয়ায় চিকিৎসার খরচ এবং দেশে আসার পর হাসপাতালে ভর্তিসহ অন্যান্য খরচ মেটানোর জন্য জমি বন্ধক ও গরু বিক্রি করতে হয়েছে।
সাতক্ষীরার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আফজাল বলেন, অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই বাবা বাড়ি আসতে চাইতেন। তারপর ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরেন। অবস্থা এত খারাপ ছিল যে তাঁকে আর বাড়ি আনা যায়নি। ওই দিন রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সেখানে তিনি মারা যান।
আফজাল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেও বাবার জন্য একটি আইসিইউ জোগাড় করতে পারিনি। তারপর বেসরকারি একটি হাসপাতালে আইসিইউতে ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সেখানে নেওয়ার আগেই বাবা মারা গেছেন।’