মবের শাসন ঘুচবে কি এখন?

বিডি নিউজ ২৪ আমীন আল রশীদ প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৪

জাতীয় নির্বাচনের দুদিন পরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সোয়া ১০টা। রাজধানীর বাংলামোটর মোড়। মানুষের শোরগোল। ফুটওভার ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তের ফুটপাতে ২০-৩০ জন লোক একজন লোককে ধাওয়া করছে। ভদ্রলোক দৌড়াচ্ছেন। গাল দিয়ে রক্ত ঝরছে। অর্থাৎ, এরই মধ্যে তাকে একদফা মারা হয়েছে। এখন সম্মিলিতভাবে পেটানোর জন্য তাকে ধাওয়া করা হচ্ছে।


খুব কাছ থেকে এই দৃশ্য দেখছিলাম এবং ভাবছিলাম আমার কী করা উচিত। একজন লোককে অনেকগুলো লোক এভাবে তাড়া করছে দেখে জ্যামে আটকে থাকা অনেকেই প্রতিবাদ করছিলেন। চিৎকার করছিলেন যেন লোকটিকে আর না মারা হয়। কিন্তু উন্মত্ত জনতা কারো কথা শুনতে নারাজ।


আহত লোকটি দৌড়ে বাংলামোটর সিগন্যাল পার হয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের সহায়তা চাইলেন। আমিও মোটামুটি দ্রুত পায়ে সেখানে গিয়ে দাঁড়াই। ততক্ষণে উন্মত্ত লোকজন সিগন্যাল পার হয়ে চলে এসেছে এবং পুলিশের সঙ্গে বাকবিকতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছে। জানতে চাইলাম সমস্যা কী? তাদের একজন জানালেন, এখানেই (বাংলামোটর ফুটওভার ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তে) তাদের অফিস। ফুটপাতে তাদের একজন সহকর্মীকে সে মেরেছে। ফলে অফিস থেকে সবাই একযোগে বেরিয়ে তাকে ধাওয়া করেছেন। বললাম, তার যদি অপরাধ হয়েও থাকে, তার শাস্তি তো আপনারা এরই মধ্যে দিয়েছেন। বড়জোর তাকে পুলিশে দিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু তাকে মেরে রক্তাক্ত করেছেন। এখন আবার সবাই মিলে ধাওয়া করছেন কেন? মেরে ফেলবেন? তখন উত্তেজিত একজন আমার পরিচয় জানতে চাইলেন। মবের শিকার হওয়ার ভয়ে পরিচয় দিলাম। তখন পাশ থেকে একজন বললেন, ‘হলুদ সাংবাদিক’। গায়ে মাখলাম না। তখন লক্ষ্য একটাই, আহত লোকটিকে বাঁচানো। দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার সিরিয়াসলি বিষয়টা মোকাবিলা করলেন এবং উন্মত্ত লোকজনকে চলে যেতে বাধ্য করলেন।


লোকটি তখন পুলিশের কাছে এসে না দাঁড়ালে এবং আমিসহ আরও কয়েকজন আহত লোকটিকে ঘিরে না ধরলে ওইদিন উন্মত্ত লোকজন তাকে কী করত জানি না।


ঘটনা পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে, যেহেতু আহত লোকটি ফুটপাতে একজনের সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে হয়তো একটা চড়-থাপ্পড় দিয়েছেন, কিন্তু ওই লোকটির অফিস যেহেতু ওখানেই, ফলে তার সহকর্মীরা এটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে দল বেঁধে নেমে আসেন। সংঘবদ্ধতার যে শক্তি, সেটি তারা দেখাতে লাগলেন। তাদের কেউ কেউ বলছিলেন, তারা দেখতে চান তিনি (আহত লোকটি) কত বড় নেতা! তাদের উদ্দেশে বললাম: আপনারা মব সৃষ্টি করছেন। আপনিও আরেকটি অফিসের নিচে গিয়ে এরকম পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন। তখন একজন আমাকে লক্ষ্য করে একটা গালি দিলেন। কিন্তু এর চেয়ে বাজে পরিস্থিতির শিকার হওয়ার ভয়ে নিজেকে সংযত করি। ভরসা রাখছিলাম পুলিশ কর্মকর্তার ওপরে।


ঘটনার ব্যাপকতা বিচার করলে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে ঘটে যাওয়া অসংখ্য মব সন্ত্রাসের একটি ছোট্ট উদাহরণ। বিশেষ করে মব সৃষ্টি করে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া; কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলা; বাউলদের ওপর সংঘবদ্ধ আক্রমণ চালানো এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা—এরকম অসংখ্য ঘটনার সঙ্গে তুলনা করলে বাংলামোটরের ওই ঘটনা হয়তো মামুলি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও লোকজন কীভাবে এই ধরনের মব সৃষ্টির সাহস পায়? নাকি অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে মব যেভাবে একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে—তাতে এই ব্যাধি থেকে জাতির মুক্তি পাওয়া কঠিন?

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও