দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে একটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আমাদের রপ্তানিও আশানুরূপ হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ আমাদের প্রাইভেট সেক্টরে ক্রেডিট অবজারভেশন কম হচ্ছে। সরকার ইচ্ছা করলেই শিল্পোদ্যোগ নিতে পারবে না। কারণ, সরকার পলিসি সাপোর্টার। বড় বড় অবকাঠামো গড়ার কারিগর। সুতরাং আমাদের রপ্তানি কমে যাওয়ার দায় শুধু সরকারের নয়। তাই রপ্তানি কেন কমছে, এর পেছনে কী কী সমস্যা রয়েছে-প্রথমে এগুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং এসব সমস্যা উত্তরণের জন্য আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।
ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতার পেছনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে, সেটা হলো ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার। সুদের হার বেশি থাকার কারণে শিল্পোদ্যোক্তারা নতুন করে শিল্পে বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছে না। এর প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়ছে। শেয়ারবাজার বর্তমানে ডাউন হয়ে আছে। বলতে গেছে ডিপপ্রেসড অবস্থায় রয়েছে। যার ফলে শেয়ারবাজারে লিকুইডিটি কমে গেছে। লোকজন এখন আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছে না। বিনিয়োগকারীরা এখন এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে। সরকারি ট্রেজারি বন্ড গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেটেই অবস্থান করেছে। তাহলে মানুষ কেন এখানে বিনিয়োগ করবে। মানুষ শেয়ারবাজার, সরকারি ট্রেজারি বন্ড ছেড়ে তখনই অন্যত্র বিনিয়োগের দিকে যায়, যখন বাজারে সবকিছুতে হতাশা থাকে। দেশে তা-ই হয়েছে।