বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাবে: সিইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের যে পথে যাত্রা শুরু করেছে, সেই ট্রেনটি সফলভাবে গন্তব্যে পৌঁছাবে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সিইসি মনে করেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি হয়েছে যা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে আরও সুসংহত করবে।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে তাঁর গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সিইসি জানান, ভোটগ্রহণের আগের দিন তিনি দেশের অধিকাংশ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। তিনি তাঁদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রশাসনের কোনো স্তরেই কারো প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা যাবে না। সিইসি বলেন, কেবল নিজে নিরপেক্ষ থাকলেই হবে না, বরং তাঁদের চারপাশে দায়িত্বরত সকলকেও নিরপেক্ষ রাখতে হবে যাতে ভোটারদের আস্থা অটুট থাকে। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়াকে তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে মন্তব্য করেন।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্য প্রবাহের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিইসি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা বিভ্রান্তিকর ছবি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় হুমকি। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরণের অপপ্রচারের অনেকগুলোই সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন। এ পরিস্থিতিতে তিনি সাধারণ মানুষকে মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানান এবং যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান।
সিইসি যে আসনে ভোট দিয়েছেন সেই ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ জন। সকাল থেকেই এই আসনসহ রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।