নতুন ভোটারদের যে কথাগুলো মনে রাখতে হবে

যুগান্তর এটিএম জহিরউদ্দিন প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৫

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন তথা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পক্ষে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংস্কার ছিল সংবিধানে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি।


বাংলাদেশের ইতিহাসে যে তিনটি নির্বাচন (১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১) কোনোরকম বিতর্ক ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার সবগুলোই হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও শেষবারের মতো এ নির্বাচনেই মোটা দাগে মানুষ নিজের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পেরেছিল। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ ও যুবকরা এবারই প্রথম ভোট দেবে।


এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েকটি মেয়াদ মিলিয়ে প্রায় ১৫ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন এবং দেশের উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অবদান, যেগুলো প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাওয়া তরুণদের অবশ্যই জানা উচিত। সেগুলো তুলে ধরাই এ লেখার উদ্দেশ্য।


বিএনপি তার রাজনীতির ইতিহাসে কখনোই জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি বা জনগণের কাছে করা ওয়াদার বরখেলাপ করেনি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সামরিক বাহিনীতে তার ক্যারিয়ার এবং নিজের ও পরিবারের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে এদেশের জনগণের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।


১৯৭৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ক্যু এবং পাল্টা ক্যুয়ের প্রেক্ষাপটে কারাবন্দি জিয়াউর রহমানকে সিপাহি-জনতা মুক্ত করে যে সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় বসায়, তখন বাকশাল বাদে সব রাজনৈতিক দল এবং চারটি বাদে সব সংবাদপত্র নিষিদ্ধ ছিল। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েমের বদলে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।


১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার কিছুদিন পর তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। আশির দশকজুড়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে। ১৯৮৬ সালে সব দল মিলে এরশাদ সরকারের অধীনে সব নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতও ওই নির্বাচনে অংশ নেয় এবং ১০টি আসনে জয়লাভ করে।


জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই শত প্রলোভন আর নির্যাতন সত্ত্বেও বিএনপিই শুধু ওই নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল থেকেছিল। ক্ষমতায় থেকেও বিএনপি জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতি সবসময় শ্রদ্ধা দেখিয়েছে এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় যত্নবান থেকেছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সংসদীয় শাসনব্যবস্থা চালুর বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সর্বদলীয় চুক্তিতে শুধু এরশাদের পদত্যাগ-পরবর্তী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল, যার কারণে স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি সরকার শুরুতে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।


১৯৯১ সালের স্মরণকালের সুষ্ঠু নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে এ দাবির পক্ষে জনমত গড়ে ওঠে এবং জনগণের চাওয়াকে সম্মান জানিয়ে বিএনপি সরকার এ দাবি মেনে নেয় এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাশ করে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। আমাদের দেশের রাজনীতিতে, যেখানে যে কোনো উপায়ে ক্ষমতা দখল করে রাখাই রাজনীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য মনে করা হয় এবং ক্ষমতায় থেকে গণদাবি উপেক্ষা করা শক্তির প্রতীক এবং জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বরখেলাপকে কৌশল বলে মনে করা, সেখানে বিএনপির স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া এবং জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা শুধু বিরলই নয়, বরং নজিরবিহীন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও