মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: এ সংকট দ্রুত কাটবে, এমন আশা করা কঠিন
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার কারণে হঠাৎই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশের অর্থনীতি। বিশেষ করে ইরান গত সোমবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো জাহাজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে রেভল্যুশনারি গার্ড ও নৌবাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে।
এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বর্তমানে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কিছু মজুত থাকলেও নতুন আমদানি ব্যাহত হলে তা দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম ইতিমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি করবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হবে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে এবং শিল্প খাত প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- মধ্যপ্রাচ্য
- মধ্যপ্রাচ্য সংকট