মিয়ানমারে নির্বাচন শেষে যে রাজনৈতিক মোড়বদল ঘটছে

প্রথম আলো মিয়ানমার (বার্মা) আলতাফ পারভেজ প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৩

বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যেই মিয়ানমারে ভোট হয়ে গেল। তিন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন শেষ হলো ২৫ জানুয়ারি। সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে ও তত্ত্বাবধানেই এই নির্বাচন হয়। নতুন সরকার গঠন শেষে ‘তাতমা-দ’ নামে পরিচিত দেশটির সশস্ত্র বাহিনী দেশব্যাপী গেরিলা প্রতিরোধ দমনে নতুন অভিযানে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে—যার একটা অংশ হতে পারে রাখাইন বা আরাকান প্রদেশে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধেও। কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে।


নির্বাচন ও নতুন বেসামরিক সরকার গঠনের ডামাডোলের মধ্যে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান গেরিলা প্রতিরোধযুদ্ধের সাংগঠনিক কাঠামোতেও একটা মোড়বদল ঘটছে এবং তার সঙ্গে গভীর যোগ রয়েছে ভূরাজনীতির, যা বাংলাদেশের সম্ভাব্য নতুন সরকারের মনোযোগ দাবি করছে।


নির্বাচনের মাধ্যমে জেনারেলদের ‘ছদ্ম সরকার’


যদিও এই ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্তি হলো, তবে সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া দেশটি গত আট দশক সামরিক ছত্রচ্ছায়াতেই আছে। প্রধান রাজনীতিবিদ অং সান সু চি পাঁচ ধরে কারাগারে বন্দী। তাতমা-দ–এর ধরপাকড়ের মুখে তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বা এনএলডির প্রায় কোনো নেতা আর প্রকাশ্যে নেই।


চলমান সামরিক শাসনকে কিছুটা বেসামরিক আবরণ দিতেই সম্প্রতি নির্বাচন দেন জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাই। তবে নির্বাচনের আগে সামরিক শাসনের বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল করে নেওয়া হয়। জান্তার অনুমোদন পাওয়া ছয়টি দল কেবল জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়। এনএলডির পাশাপাশি প্রধান আঞ্চলিক দল শান ন্যাশনালিস্ট লিগ ফর ডেমোক্রেসিও নির্বাচনে ছিল না।


মিয়ানমারের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিরা জানেন, নির্বাচন শেষে নতুন সরকারেও ক্ষমতার লাগাম জেনারেলদের হাতে থাকবে। আগামী মাসে নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, যেকোনো বেসামরিক সরকারে স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রণালয় সশস্ত্র বাহিনীর হাতে থাকে এবং পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে ২৫ শতাংশ আসন সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত রাখার নিয়ম। ফলে নতুন সরকারেও তাদের চূড়ান্ত প্রভাব থাকবে।


তা ছাড়া যে দলটি নির্বাচন শেষে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, সেই ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বা ইউএসডিপি প্রতিষ্ঠা হয়েছে সাবেক জেনারেলদের মাধ্যমেই ২০১০-এ। এখন দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক পুলিশপ্রধান খিন ই। দলটি ২০২১–এর সামরিক অভ্যুত্থান সমর্থনও করেছিল।


এনএলডির নিবন্ধন বাতিল করিয়ে ইউএসডিপিকে পার্লামেন্টে প্রধান দল হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনী ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন ঘটাল এবার। সংসদের একটা কক্ষে এবং প্রাদেশিক পরিষদগুলোতে আসনের একাংশ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোকে ভোটের সংখ্যানুপাতে বরাদ্দ করা হচ্ছে। ভোটে আসা সব দলকে পার্লামেন্টে কিছু আসন দিয়ে সন্তুষ্ট রাখার লক্ষ্যে এটা করা হলো। এ রকম সব উপায়ে সম্ভাব্য যে বেসামরিক শাসন শুরু হতে যাচ্ছে, তাতে ফেব্রুয়ারির পরও সেনাছাউনির প্রভাব আগের মতোই থাকবে। প্রতিবেশী দেশগুলোকেও তাই দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে তাতমা-দ–এর জেনারেলদের সঙ্গেই বোঝাপড়ায় আসতে হবে।


নির্বাচনকালে শঙ্কার চেয়ে কম গোলযোগ হওয়ায় জেনারেলদের আন্তর্জাতিক পরিসরে অগণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি আড়াল করার কিছুটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমের সংবাদমাধ্যমগুলো নির্বাচনকে ক্রমাগত ‘সাজানো’ হিসেবে উল্লেখ করলেও মিয়ানমারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব ট্রাম্পের আমলে কিছুটা নমনীয় দেখা যাচ্ছে।
অস্তিত্বের সংকটে সু চির সমর্থক এনইউজি


মিয়ানমারে সশস্ত্র বাহিনীর প্রাদেশিক প্রতিপক্ষ বহু। জাতীয় পর্যায়ে বিরোধীপক্ষ মূলত নিষিদ্ধ এনএলডি। এই দল–প্রভাবিত দেশটির গণতন্ত্রপন্থী প্রবাসী সরকার (ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট বা এনইউজি) গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে একটা বিবৃতি দেয়। সেখানে প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে বলা হয়, ২০২০–এর নির্বাচনে বিজয়ীদের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়াকে তারা এখনো অবৈধ মনে করে। তা ছাড়া বর্তমান সংবিধানের অধীনে কোনো নির্বাচন মিয়ানমারের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে পারবে বলে মনে করে না তারা। ‘প্রবাসী সরকার’ নাগরিকদের প্রতি নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিল। তবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে, যদিও ভোটে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও