নারীর যোগ্যতা বৃদ্ধি নাকি অনগ্রসরতা: কোন পথে বাংলাদেশ?

জাগো নিউজ ২৪ শাহানা হুদা রঞ্জনা প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৬

সামনে নির্বাচনকে ঘিরে খুব আলোচনা হচ্ছে নারী ভোটারদের নিয়ে। বিশেষ করে নারী ভোটারদেরকে দেয়া জামায়াতে ইসলামির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও নারীকেন্দ্রিক বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অবস্থাদৃষ্টে মনেহচ্ছে, এই নির্বাচন, নারী বিষয়ক নির্বাচন। সে যাক, ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কীভাবে বা কতটুকু নারীর জন্য কাজ করবেন, তা সময়ই বলে দেবে।


নির্বাচনে যে সরকারই আসুক তাদের সামনে আছে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। ব্যবসা বাণিজ্যের দুরবস্থা, কর্মসংস্থান কমে যাওয়া, কল-কারখানা বন্ধ, বেকারত্ব বৃদ্ধি, তরুণদের চাকরির সংকট, গার্মেন্টস শিল্পের ভোগান্তি এবং নারীর কাজের সুযোগ কমে যাওয়া খুব কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। কথা আছে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটবে। অর্থাৎ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে একটি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে। এই প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরে শেষ করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি এই তিনটি সূচকে যোগ্যতা অর্জন করেছে।


এই উত্তরণকে মসৃণ করতে এখন সরকার ও ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি নেয়ার কথা। অথচ ঠিক এখুনি দেশে কর্মসংস্থানে নারীশক্তির পিছিয়ে পড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে বেশ শঙ্কা তৈরি করছে। শ্রমবাজারে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন জোরদার করা না গেলে বাংলাদেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রমবাজারের কাঠামোগত শ্রমবিভাজন, অনানুষ্ঠানিক খাত বৃদ্ধি, এবং বিনামূল্যে গৃহস্থালি কাজের ভার বেড়ে যাওয়ায় শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ উদ্বেগজনকভাবে কমছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ।


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, নারী শ্রমশক্তির সংখ্যা ২০২৩ সালের ২৫.৩ মিলিয়ন থেকে কমে ২০২৪ সালে ২৩.৭ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশ, প্রবৃদ্ধি গতি হারানোর ঝুঁকিতে আছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নারী শ্রমশক্তি অংশগ্রহণে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। নেপালে এ হার প্রায় ৫০ শতাংশ, ভুটানে ৫৮, কিন্তু বাংলাদেশে মাত্র ৩৭ শতাংশ। কর্মসংস্থানে নারীর অংশগ্রহণ কমে গেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনও ঝুঁকিতে পড়বে। সবকিছু মিলে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে ব্যবসায়ীদের মধ্যে একধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের এই উত্তরণ ঘটা নিয়ে।


শুধু নারী শক্তির সংখ্যা কমে যাওয়া নয়। জাতিসংঘের নির্ধারিত তিনটি সূচক যেমন : মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়েও সবাই ভাবছে। এর আগে দুইবার বাংলাদেশ এগুলোতে পাশ নম্বর পেয়েছে কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বেশ দুর্বল। এই উত্তরণের ফলে কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা কমে যাবে। এলডিসি হিসেবে প্রাপ্ত শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা (যেমন ইউরোপে) কমে যাবে। এছাড়া রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী করা প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে ব্যবসায়ী মহলের একটা অংশ মনেকরছেন।


বাংলাদেশ 'পোস্ট-এলডিসি' ভিশন নিয়ে কাজ করছে, যা উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে এবং তৈরি পোশাক শিল্পের মতো খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে চেয়েছে। কিন্তু শ্রমশক্তিতে পুরুষদের অংশগ্রহণ মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও নারীদের অংশগ্রহণ, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। অথচ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ যখন অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা হারাবে, তখন উৎপাদনশীলতা, রপ্তানি ও রাজস্ব আয় বাড়াতে নারী শ্রমশক্তিকে কাজে লাগানো অপরিহার্য বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও