You have reached your daily news limit

Please log in to continue


নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা কেমন হওয়া উচিত?

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (বড় কোনো অঘটন না ঘটলে) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের বেশিদিন বাকি নেই। এই সময়টুকু নির্বাচনী সাংবাদিকতার জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। কারণ এই পর্যায়েই গণমাধ্যম ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তির প্রধান উৎসে পরিণত হয় এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

কমিউনিকেশন স্টাডিজের দৃষ্টিকোণ থেকে গণমাধ্যম এখানে কেবল তথ্য পরিবেশক নয়; বরং জনমত গঠনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্র, যেখানে সংবাদ বাছাই, উপস্থাপন ও ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অর্থ নির্মিত হয় (McQuail, 2010)।

এই সময়ে রাজনীতিবিদরা ব্যস্ত ভোটের অঙ্ক কষতে, কর্মীরা ব্যস্ত স্লোগান আর মিছিল নিয়ে, আর ভোটাররা ব্যস্ত ভাবতে—এবার ভোট দিতে পারবো তো? কিন্তু এই ব্যস্ততার ভিড়ে একটি গোষ্ঠী আছে, যাদের ঘুম কমে যায়, ফোনে চার্জ থাকে না, আর লাইভে যাওয়ার আগে বুকের ভেতরটা একটু ধুকপুক করে—তারা হলেন সাংবাদিক।

কারণ নির্বাচনের এই কয়েকটা দিন শুধু রাজনীতির প্রস্তুতি নয়, এটি আসলে সাংবাদিকতার জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। এখানে ভুল মানে শুধু ভুল খবর নয়, ভুল মানে ভুল আস্থা, আর সেই আস্থার ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে পুরো নির্বাচন। এইসময় ‘ভালো রিপোর্ট প্রকাশ প্রচার করে গণমাধ্যম জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে। এখানে ভালো রিপোর্টের অর্থ হলো তাতে থাকবে পুঙ্খানুপুঙ্খ, যথার্থ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং মানসম্পন্ন বিবরণ যাতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের যোগ্যতা, সম্ভাবনা, শক্তি ও দুর্বলতা পরিমাপ করা যায়’ (গাইন, ২০০৮, পৃ.৭)।

রাজনৈতিক যোগাযোগ তত্ত্ব অনুযায়ী, নির্বাচনী সময়ে গণমাধ্যম মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে—এজেন্ডা সেটিং, ফ্রেমিং এবং প্রাইমিং। এজেন্ডা সেটিং তত্ত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গণমাধ্যম মানুষকে কী ভাবতে হবে তা সরাসরি না বললেও, কী নিয়ে ভাবতে হবে—তা নির্ধারণ করে দেয় (McCombs & Shaw, 1972)।

ফলে নির্বাচনের প্রস্তুতি সাংবাদিকতায় যদি মূল ফোকাস থাকে কেবল রাজনৈতিক সংঘাত, বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য বা সম্ভাব্য বিজয়ী অনুমানের ওপর, তাহলে ভোটারদের সামনে নির্বাচন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত প্রশ্নগুলো—যেমন নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, ভোটার তালিকার নির্ভরযোগ্যতা, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা বা অভিযোগ নিষ্পত্তির কাঠামো—আড়ালে চলে যায়। এর ফল হিসেবে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেয় তথ্য ও প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নয় বরং আবেগ ও ধারণার ওপর ভর করে।

এখানেই ফ্রেমিং তত্ত্বের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। ফ্রেমিং তত্ত্ব বলছে, একই ঘটনা বিভিন্ন ভাষা ও কাঠামোয় উপস্থাপনের মাধ্যমে ভিন্ন অর্থ তৈরি করতে পারে (Entman, 1993)। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নির্বাচনী সহিংসতার একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে যদি ‘নির্বাচন সহিংসতায় ভরে গেছে’ এই ফ্রেমে উপস্থাপন করা হয়, তবে তা পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর জনআস্থাকে দুর্বল করে।

অথচ একই ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আলোকে বিশ্লেষণ করলে সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা যায়। তাই নির্বাচনী সাংবাদিকতায় ফ্রেম নির্বাচন কোনো নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি নৈতিক ও পেশাগত নির্বাচন, যা সরাসরি গণতান্ত্রিক আস্থার সঙ্গে যুক্ত।

কমিউনিকেশন স্টাডিজে সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতাকে দেখা হয় একটি পদ্ধতিগত নৈতিকতা হিসেবে—যার মধ্যে রয়েছে তথ্য যাচাই, একাধিক সূত্র ব্যবহার, স্বচ্ছতা এবং ভুল হলে তা সংশোধনের সংস্কৃতি (Kovach & Rosenstiel, 2014)।

নির্বাচনী সাংবাদিকতায় প্রায়ই শোনা যায়, ‘দুই পক্ষের কথা সমানভাবে তুলে ধরলেই নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয়।’ বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়। যখন এক পক্ষের বক্তব্য তথ্যভিত্তিক আর অন্য পক্ষের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর বা অসত্য, তখন কেবল বক্তব্য-বক্তব্যের ভারসাম্য ন্যায্যতা নিশ্চিত করে না। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকতার দায়িত্ব হলো বক্তব্যকে বক্তব্য হিসেবে নয়, বরং যাচাইযোগ্য দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা।

নির্বাচনী সাংবাদিকতা বা যেকোনো ধরনের সাংবাদিকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো সংবাদ সূত্র বা সোর্স। এই প্রসঙ্গে বলা যায়—‘খবরের সোর্স বা সূত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ সংবাদ সূত্রগুলো হচ্ছে: মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা, মেয়র বা পৌর চেয়ারম্যান, পুলিশ, দমকল বাহিনী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, জনসংযোগ কর্মকর্তা ইত্যাদি। সব রিপোর্টারই এসব সূত্র ব্যবহার করেন। কিন্তু এর বাইরেও একজন রিপোর্টারকে অনেক সূত্র গড়ে তুলতে হয়। সেগুলো হয় তার নিজস্ব। তবে তাকে খেয়াল রাখতে হবে যে, সেই সূত্র যেন হয় নির্ভরযোগ্য’ (গাইন, ২০০৫, পৃ. ৪৫)।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন