জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন ব্যতীত ভোটের মর্যাদা রক্ষা হবে না
পশ্চিমা বিশ্বের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেছেন, ‘তৃতীয় বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে নানা জটিল সমস্যা বিরাজমান। যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় তাদের ওপর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকে অনেক বেশি। কারণ তারা নানা ধরনের অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে প্রলুব্ধ করে ভোট আদায় করে নেয়। কিন্তু বাস্তবসম্মত কারণেই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পক্ষে গণচাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। ফলে অল্প দিনের মধ্যেই সাধারণ মানুষের মোহ ভঙ্গ হয়। তারা পরবর্তী নির্বাচনে নতুন কোনো রাজনৈতিক দলকে ভোট দিয়ে ক্ষমতাসীন করে। সম্ভাবনাময় নতুন কোনো রাজনৈতিক দল না পাওয়া গেলে তারা আবারও সেই পুরোনো রাজনৈতিক দলকেই ভোট দেয়।’
বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে আমরা ওই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারব। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৫৫ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। এই দীর্ঘ সময়ে যতটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু এবং জন অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার কোনোটিতেই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল জয়লাভ করতে পারেনি। পঞ্চম (১৯৯১) ষষ্ঠ (১৯৯৬) সপ্তম (২০০১) এবং অষ্টম (২০০৮) জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচন, যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। এ চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনোটিতেই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল জয়লাভ করতে পারেনি। অর্থাৎ কোনো রাজনৈতিক দল পরপর দুবার সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়নি। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অধীনে বাংলাদেশে কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হতে পারে না তা একাধিকবার প্রমাণিত হয়েছে। অনির্বাচিত সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান একটি জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কারণ এতে প্রতীয়মান হয় যে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো জনআস্থা অর্জন করতে পারেনি। তাই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য নানা ফন্দি-ফিকিরে লিপ্ত হয়। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মধ্যেই স্ববিরোধিতা প্রত্যক্ষ করা যায়। তারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগে গণতন্ত্রের কথা বলেন, জনকল্যাণের প্রতিশ্রুতি দেন; কিন্তু একবার ক্ষমতায় বসতে পারলে সবকিছু ভুলে যান এবং হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সচেষ্ট হন।
- ট্যাগ:
- মতামত
- জাতীয় সংসদ নির্বাচন
- সমাজ গঠন