নির্বাচন নিয়ে শব্দযুদ্ধ

প্রথম আলো মহিউদ্দিন আহমদ প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৮

নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। মাত্র ১২ দিন বাকি। সরকারের প্রধান নির্বাহী বলছেন, এবারের নির্বাচন হবে সেরা নির্বাচন। আমরা এটা নিয়ে গর্ব করব। নির্বাচন হবে উৎসবমুখর পরিবেশে। তারপরও মানুষ স্বস্তিতে নেই।


নির্বাচন এলেই মানুষ আতঙ্কে পড়ে যান। রাস্তাঘাটে সমাবেশ, মিছিল, মোটরবাইক ও গাড়ি নিয়ে লম্বা শোভাযাত্রা আর লাউড স্পিকারে চেঁচামেচি। চোখ খুলে নেব, জানে মেরে ফেলব—এসব হুংকার শোনা যাচ্ছে। এসব দেখে মনে হয় না, ২০২৪ সালে এ দেশের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে গণবিদ্রোহ হয়েছিল। মনে হয়, এ বিদ্রোহ শুধু সরকার বদলের জন্য হয়েছিল; সমাজ বদলের জন্য নয়। তা না হলে রাজনীতিবিদদের মুখের ভাষা কীভাবে থেকে যায় অবিকল, সেই আগের মতন।


বিভিন্ন জায়গায় গোলমাল হচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে মারামারি, সবই হচ্ছে। গোলমালের উসকানি দিতে কেউ কারও চেয়ে কম যান না।


সবচেয়ে হতাশার ব্যাপারটি হচ্ছে, আগেই তো ভালো ছিলাম—এই ধারণা ও বিশ্বাস কারও কারও মনে ক্রমে চেপে বসছে। তাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পতিত সরকারকে গালি দিয়েও এই প্রবণতা ঠেকানো যাচ্ছে না। আগের সরকার যেমন সবকিছুতেই ষড়যন্ত্র খুঁজত, অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায়ও কেউ কেউ ষড়যন্ত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন।


 আমাদের দেশের রাজনীতি অতীতচারী। পঞ্চাশ বছর আগে আমরা হেন করেছিলাম, পঁচিশ বছর আগে আমরা তেমন করেছিলাম, পনেরো বছর ধরে আমরাই তো ছিলাম ‘ভ্যানগার্ড’—এসব নিয়ে চলছে ইতিহাসের জাবরকাটা এবং একই সঙ্গে জারি আছে শব্দযুদ্ধ। কেউ একটি শব্দবাণ মারল, অমনি তার জবাবে আরও কঠিন কঠোর কিছু বিষ মুখ দিয়ে উগরে দেওয়া।


 নির্বাচনী আচরণবিধি বলে কিছু কথা আছে। নির্বাচন কমিশনের কর্তারা এ নিয়ে মাঝেমধ্যে দু-চার কথা বলেন। তাঁদের কথা কারও কানে মধুবর্ষণ করে না। অনেকটা যাত্রার বিবেকের মতো বলে যাওয়া। কিন্তু কাজ হয় না। রোজই আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ শোনা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখি, কমিশন প্রার্থীদের সাবধান করে দেয়। কেউ কেউ জরিমানাও দিচ্ছেন। তাতে খুব একটা কাজ হচ্ছে বলে মনে হয় না।


বিভিন্ন মতের নেতা ও প্রার্থীরা কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন। তাঁদের কথাবার্তায় ফুটে উঠছে তাঁদের ব্যক্তিগত ও দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা ও রুচি। অতীতের মতো এবারও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন তাঁরা। বক্তৃতা-বিবৃতিতে তাঁরা একটা কথা বোঝানোর চেষ্টা করছেন, কোনো কোনো দল এবার নির্বাচন ‘ম্যানিপুলেট’ করতে পারে। এটা আমাদের ২০১৮ সালের নিশিভোটের কথা মনে করিয়ে দেয়।


২২ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে এক সমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামাতে ফজরের নামাজ পড়ে তারপর সাতটায় গিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, এবারের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ আরেকটি জনসভায় স্পষ্টতই জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘যারা নিরীহ মা–বোনদের বিভ্রান্ত করে এনআইডি নম্বর নিচ্ছে, বিভিন্ন কথাবার্তা বলছে, তারা একাত্তরে যে আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে, সে সময় তাদের একটি ভূমিকা ছিল। লাখ লাখ মা–বোনের সম্মানহানি হয়েছিল সেদিন। তারা কী জিনিস, বাংলাদেশের মানুষ দেখে ফেলেছে।’


জামায়াতও ছেড়ে কথা বলছে না। মাগুরায় ২৬ জানুয়ারি এক পথসভায় দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপনারা চারদিকে খেয়াল রাখবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন কোনো চিল ছোঁ মেরে ভোট নিয়ে যাবে, তা হবে না।’ ঝালকাঠিতে এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘বিগত দিনের মতো যদি কেউ ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে, তবে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’ ২৭ জানুয়ারি সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে এক জনসভায় তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি নিয়ে আসব, যেখানে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি থাকবে না।’

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও