তিস্তায় সর্বোচ্চ ভাঙন যেভাবে সর্বনিম্ন হলো

প্রথম আলো তুহিন ওয়াদুদ প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫০

সম্প্রতি ঢাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ও বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল নেটওয়ার্কের (বাপা-বেন) আয়োজনে দুই দিনব্যাপী জাতীয় পরিবেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে উপস্থাপিত একটি গবেষণা প্রেজেন্টেশনের সূত্র ধরে প্রথম আলো যে খবর ও সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে, তা বিশেষত নদীপারের যে কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। সেই প্রেজেন্টেশনে উঠে এসেছে, ২০২০ সালে তিস্তাপারে প্রায় ৯০ হাজার বাড়ি ভেঙে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।


এটাই বোধ করি তিস্তায় সর্বোচ্চ নদীভাঙন। তিস্তা নদীতে প্রতিবছরই তীব্র ভাঙন হয়। মোট কতজনের বাড়ি-ভিটা তিস্তায় বিলীন হয়েছে, এ তথ্য সরকারের কাছে নেই। ১৭ বার বাড়ি ভেঙেছে—এমন ব্যক্তির সঙ্গেও দেখা হয়েছে। তিস্তায় চার-পাঁচবার বাড়ি ভেঙেছে, এমন অসংখ্য মানুষ আছে।


তিস্তাপারে গিয়ে প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বললে জানা যায় নদীভাঙন কত ভয়ংকর! তিস্তার বাঁ তীরে লালমনিরহাটের মহিষখোচায় কিছুদিন আগে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। সেখানে একজন বয়স্ক ব্যক্তি বলছিলেন, যে স্থানে তাঁর বাড়ি ছিল, সেই স্থান এখন নদীর চার-পাঁচ কিলোমিটার ভেতরে। ডান তীরে অনেককে বলতে শুনেছি, তাঁদের বাড়ি তিস্তার চার-পাঁচ কিলোমিটার ভেতরে ছিল।


এতে বোঝা যায়, নদীর দুপারেই কয়েক কিলোমিটার করে প্রস্থে ভেঙেছে। গত বছর কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের গতিশয়াশামে একটি জরিপ করেছি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ওই স্থানে প্রায় ছয় শ বাড়ি, সড়ক, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ভেঙেছে। জরিপে উঠে আসা চিত্রে দেখা যায়, সরকার ওই ভাঙনকবলিত পরিবারের কাউকে বাড়ি করে দেয়নি।


প্রতিবছর তিস্তা নদী থেকে হাজার হাজার বাড়ি-ভিটা বিলীন হয়। আমরা প্রতিবছর তা–ই দেখে আসছি এবং প্রবীণদের কাছেও এ তথ্যই পাচ্ছি। এই ভাঙনের ইতিহাসে ২০২৫ সালে একটি ভিন্ন চিত্র আমরা দেখেছি। এ বছর নদীতে মানুষের বসতভিটা ভেঙে যাওয়ার পরিমাণ সর্বকালের কমসংখ্যক।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের একাধিক প্রকৌশলী বলেছেন, বর্ষা এলে তাঁরা তটস্থ থাকতেন তিস্তা নদীর ভাঙন নিয়ে। দিনে-রাতে তাঁরা ছুটে বেড়াতেন। যদিও তাঁদের সেই ছোটাছুটিতে ভাঙন রোধে তেমন কাজ হতো না। অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় বর্ষায় এবার কর্মকর্তাদের আগের মতো তটস্থ থাকতে হয়নি। যতটুকু জানা গেছে, এ বছর সর্বসাকল্যে এক শ বাড়িও সরাতে হয়নি।


গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান রংপুরের কাউনিয়ায় ‘তিস্তা নিয়ে করণীয়’ শীর্ষক গণশুনানি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। তখন তিনি তিস্তা নদীর অতি ভাঙনপ্রবণ ৪৫ কিলোমিটার ভাঙন রোধের জন্য ২৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। ৪৫ কিলোমিটারের মধ্যে যে ২০ কিলোমিটার ভীষণ ভাঙনপ্রবণ ছিল, সেই ২০ কিলোমিটারের কাজ দ্রুততম সময়ে গত বছর শুরু হয়।


গত বছর যে টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, সেই টাকায় করা প্রতিরোধমূলক কাজ তিস্তা নদীর ভাঙন ঠেকিয়েছে। যুগের পর যুগ যে কাজ করা হয়নি, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সেই কাজে বিলম্ব করেননি। কারণ, তিনি তিস্তাভাঙনের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতেন। উপদেষ্টা হওয়ার আগেও অতীতে তিনি কয়েকবার তিস্তা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। এই দুঃখ-দুর্দশা তাঁর নিজ চোখে দেখা।


তিস্তা নদীর বয়স ২৪০ বছর। তিস্তা নদী সৃষ্টির পর এত বৃহৎ পরিসরে ভাঙন রোধে কখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ইতিহাস জানা যায় না। অতীতে যখন নদীর ভাঙন সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছাত, তখনো কোনো সহায়তা সরকার থেকে পাওয়া যেত না। আমি নিজে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেও সাড়া না পাওয়ার ঘটনা আছে। তিস্তাপারে এমনও স্থান আছে, যেখানে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় করলে পাঁচ শ কোটি টাকা সাশ্রয় হতো। হাজার হাজার বাড়ি ভাঙন থেকে রক্ষা পেত। এই সামান্য টাকাও অতীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি ভাঙন রোধে।


তিস্তায় ২৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে যে ভাঙন বন্ধ হচ্ছে, এতে লাখ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। বিগত সরকারের সময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দোহাই দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ছেলেভোলানো গল্প শোনানো হয়েছে। না হয়েছে মহাপরিকল্পনা, না হয়েছে ভাঙন রোধে কোনো কাজ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও