বিলাসিতা বনাম বাস্তবতা

জাগো নিউজ ২৪ চিররঞ্জন সরকার প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৯

বাঙালি কী পারে? এই কালজয়ী প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে কোনো সমাজবিজ্ঞানীর দরকার নেই, কেবল বাঙালির ফেসবুক ওয়াল আর চায়ের দোকানের আড্ডাই যথেষ্ট। বাঙালি সব পারে। সে নিজের পকেটে ১০ টাকার নোট না থাকলেও বিশ্বব্যাংকের ঋণের শর্ত নিয়ে তিন ঘণ্টা বিতর্ক করতে পারে। সে নিজের বাড়ির উঠানে নর্দমার জল জমিয়ে রেখে পাশের বাড়ির বারান্দার টবে কেন মশা উড়ছে, তা নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা পর্যন্ত দৌড়াতে পারে। বাঙালি পারে বদনাম করতে, পারে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে, ‘এই দেশ আর ঠিক হলো না।’


বাঙালি পারে সকালবেলা পত্রিকার শিরোনাম দেখে দুপুরের ভাত হজম না হওয়া পর্যন্ত গালাগালি করতে। কিন্তু বাঙালি একটা কাজ একদমই পারে না—কারও আরাম সহ্য করতে। বাঙালির সবচেয়ে বড় সক্ষমতা হলো অন্যের আরাম দেখে নিজের রক্তচাপ বাড়িয়ে ফেলা। বিশেষ করে সেই আরাম যদি হয় রাষ্ট্রের ‘সেবক’দের, তাহলে তো কথাই নেই—বাঙালির নৈতিকতা তখন এভারেস্টের চূড়ায় গিয়ে তর্জনী উঁচিয়ে গর্জন শুরু করে।


যারা দেশ চালায়, রাষ্ট্র চালায়—তাদের জন্য যদি একটু আলিশান বাড়ি, একটু বড় ফ্ল্যাট, একটু ফাঁকা জায়গা রাখা হয়, তাতেই বাঙালির গায়ে জ্বালা ধরে যায়। যেন ওই ফ্ল্যাটের প্রতিটা বর্গফুট তার নিজের পেট থেকে কেটে নেওয়া। অথচ কেউ একবারও ভেবে দেখে না—দেশ চালানো কি এত সস্তা কাজ? দিনের পর দিন ক্ষমতার ভার বহন করতে করতে মানুষের কোমর ভেঙে যায়, মাথা ভারী হয়ে আসে। সেই মানুষগুলোর একটু প্রশস্ত ঘরে হাঁটার অধিকার নেই?


সম্প্রতি গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সরকার নাকি ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় তিনটি নতুন ভবন বানাবে। শুনেই শুরু হয়ে গেছে আর্তনাদ। মোট ৭২টি ফ্ল্যাট, প্রতিটির আয়তন ৮ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার ৩০ বর্গফুট। ব্যয়? মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। ‘মাত্র’ শব্দটা শুনে কেউ কেউ চমকে উঠবেন, কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্কেলে এই ‘মাত্র’ শব্দটাই স্বাভাবিক। কারণ রাষ্ট্র কোনো মুদির দোকান না, যে খুচরা হিসাব মিলিয়ে চলবে। রাষ্ট্র মানে ব্যাপ্তি, রাষ্ট্র মানে প্রশস্ততা, রাষ্ট্র মানে বড় করে ভাবা।


বেইলি রোড, মিন্টো রোড আর হেয়ার রোড—এই তিন রাস্তার নাম শুনলেই একটা গাম্ভীর্য নেমে আসে। এটা সাধারণ রাস্তা নয়, এটা মন্ত্রিপাড়া। এখানে ফুটপাতও যেন একটু গম্ভীর, বাতাসেও একটা সরকারি গন্ধ। এই এলাকায় নতুন ভবন মানে শুধু ইট-সিমেন্ট নয়, এটা আসলে ক্ষমতার নতুন আসবাবপত্র। এখানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সাংবিধানিক সংস্থার প্রধান—সবাই থাকবেন। মানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে এক জায়গায় সাজিয়ে রাখা হবে।


সমস্যা হলো, কিছু নিন্দুক হিসাব কষে ফেলেছে। হিসাবটা হলো, মন্ত্রিপাড়ায় আগে থেকেই ১৫টা বাংলো আছে। বেইলি রোডে আবার মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট নামে তিনটি ভবন আছে, যেখানে ৩০টি ফ্ল্যাট। প্রতিটি ফ্ল্যাট সাড়ে পাঁচ হাজার বর্গফুট (সাইজে তা মোটেও ছোট না)। তার ওপর গুলশান, ধানমন্ডিতেও রয়েছে আলাদা আবাসন। সব মিলিয়ে ঢাকায় মন্ত্রীদের জন্য ৭১টি বাংলো ও ফ্ল্যাট চিহ্নিত আছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, মন্ত্রীদের আবাসনের সংকট কোথায়?


এই প্রশ্ন তোলাটাই বাঙালির সবচেয়ে বড় অপরাধ। কারণ প্রশ্ন মানেই সন্দেহ, আর সন্দেহ মানেই রাষ্ট্রীয় সৌন্দর্যের ওপর আঘাত। রাষ্ট্র যদি বলে—`আমাদের আরও বড় ফ্ল্যাট দরকার`—তাহলে সেটাকে বিশ্বাস করতে হয়। কারণ রাষ্ট্র কখনো অপ্রয়োজনীয় কিছু চায় না, রাষ্ট্র শুধু প্রয়োজনীয় বিলাসিতা চায়।


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও