টেকসই উন্নয়নে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ

www.ajkerpatrika.com মো. শফিকুল ইসলাম প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৩

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রা এখন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। সে জন্য মানবসম্পদের মান, গবেষণা-সক্ষমতা এবং উদ্ভাবনের গতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ডিগ্রি প্রদান কিংবা স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দিয়ে এই চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়; দরকার এমন একটি ইকোসিস্টেম, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত ও রাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে। এই প্রেক্ষাপটে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত ও বাস্তবায়ন করা জরুরি।


প্রথমত, লিংকেজের লক্ষ্য স্পষ্ট হওয়া দরকার। এর উদ্দেশ্য শুধু কর্মসংস্থান নয়, বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, উদ্ভাবনের বাণিজ্যিকীকরণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান শক্ত করা। উন্নত দেশগুলোতে এই লক্ষ্যগুলোকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্প অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছে। সিঙ্গাপুর, ফিনল্যান্ড বা দক্ষিণ কোরিয়ায় সরকার প্রণোদনা, করছাড় এবং যৌথ তহবিলের মাধ্যমে এই অংশীদারত্বকে টেকসই করেছে। বাংলাদেশেও এমন লক্ষ্যভিত্তিক কাঠামো তৈরি করা সম্ভব।


দ্বিতীয়ত, পাঠ্যক্রম ও দক্ষতার বৈচিত্রায়ণ জরুরি। শিল্প খাতের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দক্ষতার চাহিদা-ডেটা অ্যানালিটিকস, অটোমেশন, সাপ্লাই চেইন ডিজিটালাইজেশন, সবুজ উৎপাদন, সাইবার সিকিউরিটি—এসবকে নিয়মিতভাবে আপডেট করে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটবেইসড কোর্স, মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল ও স্পট স্কিল সার্টিফিকেট চালু করলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।


বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের পথে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ বেকার, অথচ শিল্প-কারখানা ও করপোরেট খাতে দক্ষ জনশক্তির অভাবে বিপুল বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে হচ্ছে। এই বৈপরীত্যই স্পষ্ট করে দেয়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিল্প খাতের মধ্যে কাঠামোগত একটি বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ শুধু একটি ধারণা নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য কৌশল।


দেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পে মার্চেন্ডাইজিং, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে বিদেশি পেশাজীবীরা কাজ করছেন। এর পেছনের মূল কারণ হলো স্থানীয় গ্র্যাজুয়েটদের বাস্তবমুখী দক্ষতার ঘাটতি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের পর অনেক শিক্ষার্থী জব মার্কেটের চাহিদার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হন। ফলে একদিকে বেকারত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে শিল্প খাত দক্ষ জনবল পাচ্ছে না। এই দ্বিমুখী সংকট সমাধানের কার্যকর উপায় হলো শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো।


বর্তমান বিশ্ব চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবোটিকস, বিগ ডেটা ও সবুজ প্রযুক্তি শিল্প খাতের রূপ বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশের শিল্প খাতও ধীরে ধীরে এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি এই পরিবর্তনের জন্য শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে প্রস্তুত করছে? অনেক ক্ষেত্রে পাঠ্যক্রম এখনো তাত্ত্বিক জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজের মাধ্যমে শিল্প খাত সরাসরি পাঠ্যক্রম উন্নয়নে যুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও