অতৃপ্ত আত্মা যেন আমাদের জীবনকে চালিত না করে

জাগো নিউজ ২৪ শাহানা হুদা রঞ্জনা প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৬

পথে যেতে যেতে দেখলাম একজন দরিদ্র মা একটা পুতুল হাতে নিয়ে তার ছোট বাচ্চাটিকে সাথে খেলছেন। হয়তো এই পুতুলটা সচ্ছল ঘরের কোনো শিশু ফেলে দিয়েছিল, মা সেটাই কুড়িয়ে এনেছেন তার সন্তানের জন্য। ফুটপাতে ময়লার পাশে বসেও মা, মেয়ে দুজনের মুখেই হাসি। দেখে খুব কষ্ট হলেও একধরনের ভালবাসা জাগলো মনে। নানাধরনের অপ্রাপ্তির ভেতরে বসবাস করেও যখন দেখি, একজন মা ছেঁড়া কাঁথার উপরে বসে সন্তানকে আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করছেন, তখন নিজের অজান্তেই মনেহয় মানুষ আসলে খুব সামান্য কিছু পেয়েই সুখী হওয়ার চেষ্টা করে।


যখন দেখি নগরের জীর্ণ বস্তিতে বসে মা তার সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করছেন, একজন প্রতিবন্ধী মানুষ ট্রাফিক পুলিশের হাত ধরে রাস্তা পার হচ্ছেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মেয়েটি সবকিছুকে পরাজিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখতে পারে, হাঁটতে না পারা ছেলেটি যখন মায়ের কোলে চেপে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে যায়, রিকশা টেনেও একজন বাবা যখন তার সন্তানকে ডাক্তার বানাতে পারেন, তখন তাঁদের পাশাপাশি নিজেকেও সুখী মনেহয়। মনেহয়, অনেককিছুর হিসেব না মিলিয়েও তো কখনো কখনো সুখী হওয়া যায়।


পরিচিতদের মধ্যে অনেককেই জানি, যাদের টাকা-পয়সা সব আছে, বাড়ি-গাড়িও আছে কিন্তু মনে সুখ নেই, চোখে ঘুম নেই। বিভিন্নধরনের পারিবারিক অশান্তি তাদের তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। হয়তো সন্তান মানুষ হয়নি, ঘরে ঝগড়াঝাটি লেগেই আছে, কোনো প্রিয়জন দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত। আবার ব্যবসা বা চাকরি নিয়েও অশান্তি লেগেই আছে।


এর পাশাপাশি আছে দেশের পলিটিক্যাল অস্থিরতা, বাণিজ্যে মন্দা, নিরাপত্তাহীনতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মব সন্ত্রাস ইত্যাদি। এই নেতিবাচক পরিস্থিতি কারো একার সুখ কেড়ে নেয়না, সমষ্টিকে কষ্টে রাখে। দরিদ্র যে মানুষগুলোর কথা বললাম তাদের ব্যক্তিগত অপ্রাপ্তি এত বেশি যে সমাজের দুঃখ-কষ্ট তাদের সেভাবে স্পর্শ করার সুযোগ পায় না।।


বিখ্যাত দার্শনিক, শিক্ষক ও রাজনীতি বিষয়ক তাত্তি¡ক কনফুসিয়াস সুখী জীবনের জন্য খুব সাধারণ কিছু সূত্র দিয়েছেন। তিনি মনে করতেন, শাসকেরা এমন উদাহরণ সৃষ্টি করবে, যাতে সাধারণ জনগণ একে অন্যের প্রতি সদাচারে উৎসাহী হবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটি উনি বলেছেন তা হলো ”যা আপনি যে আচরণ নিজের জন্য প্রত্যাশা করেন না, তা অন্যেও প্রতিও করবেন না।”


সুখী হওয়ার জন্য তিনি আরো পাঁচটি উপায়ের কথা বলেছিলেন কনফুসিয়াস এবং সেগুলোর নাম দিয়েছিলেন ‘পাঁচ সদ্গুণ’। তিনি মনে করতেন, সুখী এবং অর্থময় (মিনিংফুল) জীবনের জন্য পাঁচ গুণের প্রতিটিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হচ্ছে সততা এবং ন্যায়পরায়ণতা, সদাচার ও ভদ্রতা, দানশীলতা ও মানবতা, জ্ঞান ও শিক্ষা এবং বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য।” (সূত্র: প্রথম আলো)


২০২৫ সালের বিশ্ব সুখ ইনডেক্সে টানা অষ্টম বারের মতো ফিনল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, এরপরই আছে ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড ও সুইডেন। এই সুখের ইনডেক্স মূলত সামাজিক সমর্থন, জীবনযাত্রার মান এবং দুর্নীতির মাপকাঠির মতো বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও