বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জন্য ২০২৫ ছিল প্রাণঘাতীর, ২০২৬ কেমন যাবে?
বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জন্য ২০২৫ সাল কেমন ছিল? ছোট্ট কয়েকটি পরিসংখ্যানের দিকে নজর দেওয়া যাক। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ বেলজিয়ামের ব্রাসেলস থেকে প্রকাশিত দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে)-এর বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ সালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্বে ১২৮ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন; যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। ১২৮ জনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে।
প্যারিসভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ) জানাচ্ছে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন জন নারী সাংবাদিকসহ বিশ্বের ২২টি দেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৬৭ জন সাংবাদিক।
আর এ সময়ে ১৫৩ জন সাংবাদিক নিখোঁজ হয়েছেন। যাদের পরিণতি সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন নিখোঁজ এই সাংবাদিকদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ জন নিখোঁজ হয়েছেন যুদ্ধবিদ্ধস্ত সিরিয়ায়। এরপরের অবস্থায় আছে মেক্সিকো ও ইরাক।
আরএসএফ তাদের বছর শেষের প্রতিবেদনে সারাবিশ্বে সাংবাদিকদের জীবন ও কর্ম পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে মোটা দাগে দুই ধরনের প্রতিবন্ধকতাকে শনাক্ত করেছে। সংস্থাটির ভাষায় তারা হচ্ছেন সাংবাদিকতার রাজনৈতিক শিকারি (POLITICAL PREDATORS) ও নিরাপত্তাজনিত শিকারি (SECURITY PREDATORS)।
২০২৫ সালে স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রধান রাজনৈতিক শিকারিরা ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও আফগানিস্তানে সুপ্রিম লিডার হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। আর নিরাপত্তাজনিত শিকারির তালিকায় ছিল ইসরায়েলের কুখ্যাত বাহিনী আইডিএফ, মিয়ানমারের স্টেট সিকিউরিটি ও পিস কমিশন এবং মেক্সিকোর সন্ত্রাসবাদী অপরাধ সংগঠন জেসিলসকো নিউ জেনারেশান কার্টেল বা সিজেএসজি।
এছাড়া বছরের শেষ প্রান্তে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াসহ বিশ্বের বেশকিছু অঞ্চলে কয়েকটি উগ্রবাদী, অসহিষ্ণু সংগঠন গড়ে উঠেছে। যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। এরইমধ্যেই জ্বালিয়ে দিয়েছে দুটি সংবাদপত্র অফিস। (2025 ROUND-UP, আরএসএফ)
এদিকে সার্বিক দিক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গ্রেগোরিয়ান নতুন বছর ২০২৬ এর শুরুতেই সাংবাদিকদের জন নতুন কিছু মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যা এরইমধ্যেই প্রভাবিত করছে সাংবাদিকদের কাজের পরিসরকে।
সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) জানাচ্ছে, ভেনেজুয়েলায় নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেওয়ার দিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থার ১৪ জন সাংবাদিককে রাজধানী কারাকাসে কারারুদ্ধ করা হয়।
দেশটির সাংবাদিকদের জাতীয় সংগঠন আরও জানাচ্ছে, নতুন প্রেসিডেন্ট শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। এমনকি ভেনেজুয়েলার নতুন সরকার বিদেশি সাংবাদিকদের দেশটিতে প্রবেশও করতে দিচ্ছে না।