কে জোগাবে ভোটের খরচ?
আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের সঙ্গে সঙ্গে, রাজনীতি সংক্রান্ত ধারণা পাল্টে যেতে থাকে। রাজার ইচ্ছাই শিরোধার্য এই নীতি আর চলবে না, জনগণ হবেন রাজনীতি সমাজের পরিচালনাকারী শক্তি। জনগণের অভিপ্রায় এবং পক্ষের শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠলেও, রাজনৈতিক দল এক অর্থে সমাজের অভিভাবক। রাজনীতি শুধু নীতি ও পদ্ধতিই নয়, রাজনীতি একটা সংস্কৃতিও বটে। কার পক্ষে কথা বলবে রাজনৈতিক দল? দেশ যখন বিভক্ত হয়ে পড়েছে ধনী ও দরিদ্রে, তখন তাদের পক্ষে কথা বলার দলও দাঁড়িয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নির্বাচনীব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, ধনীরা ছাড়া সেখানে অংশ নেওয়া কঠিন। প্রতিটি নির্বাচন আসে এবং এই প্রশ্ন তৈরি হয় নির্বাচন এত খরচের ব্যাপার, কে জোগাবে নির্বাচনের খরচ? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার প্রার্থী হতে ৩০০ সংসদীয় আসনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল।
প্রতিটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা করেছিলেন গড়ে ৮ জন। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, ১৮৪২ জনকে। আপিল নিষ্পত্তির শেষে এই সংখ্যা একটু বাড়তে পারে। একটা বিষয় চোখে পড়ার মতো। এত প্রার্থীর ভিড়ে, নারীপ্রার্থী মাত্র ৬৫ জন। ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দলের কোনো নারীপ্রার্থী নেই। যাদের প্রার্থী আছে, তাদের অনেক দল কমপক্ষে ৫ শতাংশ নারীপ্রার্থী দিতে পারেনি। কেন পারেনি, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ চলছে। এর কতটা সামাজিক, সাংস্কৃতিক আর কতটা অর্থনৈতিক এবং কতটা নারীর নিরাপত্তাজনিত সেসব আলোচনা থেকে নিশ্চয়ই কারণগুলো বেরিয়ে আসবে। নির্বাচনে টাকা, পেশিশক্তি এবং ধর্মের প্রভাব কতটা এবং এগুলো বজায় থাকলে নির্বাচন হলেও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত হবে কি না, সে প্রশ্ন থেকে যাবে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- রাজনীতি
- সাম্প্রতিক রাজনীতি