প্রসঙ্গ : ফ্যাসিস্টদের বিচার

যুগান্তর প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪২

ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেকেই তাকে এবং জুলাইযোদ্ধাদের অনেককে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। শেষাবধি ওসমান হাদিকে জীবন দিতেই হলো। ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী পলাতক গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগী নেতাকর্মীরা বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভন্ডুল করে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি, এনসিপিসহ সব ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তিকে উচ্ছেদ করার হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিদেশি মিডিয়ায় দেওয়া বক্তৃতা-বিবৃতি-সাক্ষাৎকারে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সহযোগীরা বিষোদগার করে যাচ্ছে এখানকার গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের সব ব্যক্তি ও দলের বিরুদ্ধে। আসলে গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) রায়ে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার এবং অন্য মামলায় দীর্ঘ কারাবাসের রায় দেওয়ার পর আওয়ামী দানবগোষ্ঠী এখন আবারও ভয়ংকর চেহারায় আবির্ভূত হয়েছে-যা বিশ্বে নজিরবিহীন ঘটনা। শেখ হাসিনার অপকর্ম-অপরাধের বিচার কেবল শুরু হয়েছে, কয়েকটি মামলার রায় হয়েছে। সবারই জানা, প্রায় দেড় হাজার (৮৩৪ জনের নাম-পরিচয়ের রেকর্ড মিলেছে; জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১৪০০) মানুষকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ৩৬ দিনে রাজপথে গুলি করে হত্যা, এর আগে প্রায় ৭০০ রাজনৈতিক কর্মীকে গুম ও গুম-খুন, প্রায় ১৩ হাজার রাজপথ কর্মীকে গুলি করে আহত-পঙ্গু করে দেওয়া (এ সংখ্যাটি কারও কারও মতে ২৫ হাজার), ৪০ লাখ কোটি টাকার রাষ্ট্রসম্পদ লুণ্ঠন আর ২৮ লাখ কোটি টাকার রাষ্ট্রসম্পদ বিদেশে পাচার, প্রায় ১৬ বছর ধরে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীর ওপর গণতন্ত্রের আন্দোলন করার অভিযোগে হামলা-মামলা এ দেশের গণমানুষকে চরম বিক্ষুব্ধ করে রেখেছে।


দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার, আওয়ামী মাফিয়া গোষ্ঠীর লোকগুলোকে দ্রুত বিচারের জন্য যে অর্থ, বিচারিক জনবল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তিশালী তৎপরতা দরকার ছিল, তার কোনো কিছুরই ব্যবস্থা অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাপক ইউনূস সরকার করতে পারেনি। তারা কিছুটা চেষ্টা করেছেন-আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) দুটি আদালতের মাধ্যমে (আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রচেষ্টা এখনো বাস্তবায়ন করা যায়নি)। আইসিটির তিনটি ট্রাইব্যুনালে আরও অর্থ বরাদ্দ ও জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি আরও অনেক দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা দরকার ছিল। সে বিচারকাজ আংশিক বাস্তবায়ন করতে হলেও অন্তত দশ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ প্রয়োজন। কারণ, ওয়াকেবহাল মানুষ জানেন, আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নামক দলটিতে প্রচুর ক্রিমিনাল রয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তত প্রথম সারির গণহত্যাকারী, গুম-খুনে জড়িত ব্যক্তি এবং কুখ্যাত রাষ্ট্র-লুটেরার বিচার সম্পন্ন করা জরুরি কাজ ছিল। তা করার বিচারিক কর্মকাণ্ড দ্রুত পরিচালিত হলে ভারতে পলাতক ফ্যাসিস্ট খুনিরা এ দেশে এসে মানুষ খুন বা হামলা চালানোর ঔদ্ধত্য দেখাতে পারত না। পাশাপাশি জরুরি ছিল সব অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার এবং সব শ্রেণির অপরাধীকে গ্রেফতার ও জেলবন্দি করে রাখা। সেসব করতে পারলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়ে যেত। এবং সেই সঙ্গে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে আসত পারত, আর মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বাড়ত এবং রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুতবেগে সামনে এগোত।


দেশবাসীর জন্য দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে-অন্তর্বর্তী সরকারের সদিচ্ছার অভাব না থাকলেও তাদের উপদেষ্টাদের মধ্যে রাষ্ট্রপরিচালনার দক্ষতার নিদারুণ অভাব আর দূরদর্শিতার সংকট রয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসটি) ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালসহ কিছু আওয়ামী লীগ নেতার বিচার শুরু করলেও তাদের অন্তত দুই লাখ গণহত্যাকারী, রাষ্ট্র-লুটেরাদের বিচারের কাজে হাতই দিতে পারেননি। তারা এত বিশাল বিচারকাজে পর্যাপ্ত অর্থ-বরাদ্দ ও বিচারিক লোকবল, পুলিশ-জনবল নিয়োজিত করতে পারেননি, এমনকি এ বিশাল বিচারিক কাজ সম্পাদন নিয়ে সঠিক ভাবনা-চিন্তাও করতে সক্ষম হননি। তারা হয়তো আন্দাজই করতে পারেননি-অধুনা নিষিদ্ধ কার্যক্রমের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দশ লাখ ভয়ানক অপরাধী আছে। দ্রুততার সঙ্গে তাদের দুই লাখ মারাত্মক অপরাধীর বিচার সম্পাদন করা দরকার। তাদের জন্য কারাগারের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন, নতুন কারাগার নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে কারারক্ষী ও অন্য কারাগারের স্টাফ বাড়াতে হবে অতি দ্রুততার সঙ্গে। আওয়ামী মাফিয়া দস্যুদের কঠোর হাতে দমন করা না গেলে এ দেশে গণতান্ত্রিক সরকার কায়েম হলেও ওই মাফিয়া গোষ্ঠী সরকারকে ষড়যন্ত্র করে প্রতিনিয়ত বিপাকে ফেলবে, কোনো ধরনের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে দেবে না। এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ রয়েছে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে। রাষ্ট্রনায়ক জিয়া শত ধরনের চেষ্টা করে গেছেন দেশবাসীর আর্থ-সামাজিক ও রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নের। কিন্তু তখনকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পদে পদে রাষ্ট্রনায়ক জিয়াকে সব উন্নয়ন কাজে বাধা দিয়ে গেছে।


আমরা স্মরণ করতে পারি, প্রথম আওয়ামী লীগ সরকারের ও একদলীয় বাকশাল স্বৈরশাসনের আমলে (১৯৭২ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫-এর ১৪ আগস্ট অবধি) শেখ মুজিবের দুঃশাসনের সময়কালে ২০ হাজার থেকে ৩৩ হাজার (সংখ্যাটি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে) প্রগতিশীল ও বামপন্থি রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছে, অনেককে গুম-খুন করা হয়েছে। এসব নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং রাষ্ট্র-লুণ্ঠনের ফলে চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ধসিয়ে দেওয়ার জঘন্য অপরাধের জন্য দায়ী কোনো আওয়ামী নেতাকর্মী বা সহযোগীদের বিচার করা যায়নি। এর ফলে পরবর্তী আওয়ামী লীগ ও এরশাদ সরকারের আমলে গুম-খুন, রাজপথে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড, লাখ লাখ কোটি টাকার সমমানের রাষ্ট্র-সম্পদ লুণ্ঠন ইত্যাদি অপরাধকর্মের মাত্রা হিমালয়সম পর্যায়ে উঠে গেছে। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভয়ে সারা দেশের মানুষ ২৪ ঘণ্টা আতঙ্কে কাটিয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী নিজের ও পরিবার-পরিজনের জানমাল বাঁচানোর জন্য দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। দেশের শিল্পায়ন ব্যাহত হয়েছে, শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছন, কর্মজীবী ও শ্রমজীবীরা নিদারুণ অসহায় হয়ে পড়েছেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও