মোগলহাট ও লালমনিরহাট: উন্নয়ন বঞ্চনার এক বাস্তব দলিল
গত বছরের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে রাজশাহী থেকে লালমনিরহাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি। এ ভ্রমণটা আমার জীবনে আর দশটা সাধারণ ভ্রমণের মতো ছিল না; বরং উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ জীবনের গভীরতা ও সহজ সৌন্দর্যকে কাছ থেকে অনুভব করার এক বিরল সুযোগ এনে দিয়েছিল। রুয়েটের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বাল্যবন্ধু ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের আমন্ত্রণে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে টানা তিন দিন পুরো লালমনিরহাট জেলা ঘুরে বেড়ানোর সৌভাগ্য হয়।
শহরের ভিড় থেকে গ্রামের নির্জনতা, বাজারের হাঁকডাক থেকে নদীর তীরে শীতের পাখিদের কোলাহল—সবকিছুতেই একটি সতেজতা অনুভূত করি। এ যেন ইটপাথরের জঞ্জাল থেকে সাময়িক মুক্তি। কিন্তু এই তিন দিনের যাত্রায় মোগলহাট স্থলবন্দরের ধ্বংসাবশেষ মনে এমন দাগ কেটে দিয়েছে যে, রাজশাহী ফিরে এসেও সেই ছবি মুছে যায়নি। বাস্তবতা হলো, এই বন্দরটি শুধু একটি পরিত্যক্ত স্থাপনা নয়, বরং লালমনিরহাটের অর্থনীতির অপূর্ণ সম্ভাবনার প্রতীক। ধ্বংসস্তূপে পরিণত এই স্থানটি চালু করার প্রয়োজনীয়তা এখন আরও স্পষ্টভাবে অনুভব করছি, কারণ এটি হাজারো মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। সেই তাগিদ থেকেই লেখাটির জন্ম।