নতুন বন্দোবস্তে কতটা বৈষম্যহীন দেশ পেলাম

প্রথম আলো উম্মে ওয়ারা প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫০

পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ছে বিভিন্ন বিষয়ে গত বছরের সালতামামি। ২০২৫ সালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও জরিপগুলো দেশের সার্বিক অবস্থা বুঝতে সাহায্য করে। তাতে উঠে এসেছে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মৌলিক অধিকার ও নাগরিক সুরক্ষার ধারাবাহিক লঙ্ঘনের চিত্র, যা আমাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে।


অভ্যুত্থানের চেতনা কতখানি বেহাত হলো, সে বিষয়ে সন্দিহান করে তোলে। কেননা, জুলাইয়ের সময় ‘বৈষম্যহীন’, ‘নতুন বন্দোবস্ত’ ও ‘ইনসাফের’ জন্যই সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। দিন শেষে মানুষ শান্তি চায়, চায় জীবনমানের দৃশ্যমান উন্নতি। এই চাওয়ার কতখানি পেলাম আমরা, তা নৈর্ব্যক্তিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি।


বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ক্রান্তিকালীন পরিসরে জনগণ বহুমাত্রিক উপায়ে নিজের আকাঙ্ক্ষা ব্যাখ্যা করে। রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যেখানে চুক্তি বা যুদ্ধবিরতিকে ‘শান্তি’ হিসেবে আখ্যা দেয়, জনগণ সেখানে শান্তি বলতে জীবন চালানোর সক্ষমতাকে বোঝে, বিমূর্ত কোনো ধারণাকে নয়।


এ বিষয়ে নরওয়েজীয় সমাজবিজ্ঞানী ও শান্তি-গবেষণার জনক জোহান গালটংয়ের একটা তত্ত্ব খুবই প্রাসঙ্গিক। তিনি ‘শান্তিকে’ কেবল ‘নেগেটিভ পিস’ বা সহিংসতার অনুপস্থিতি হিসেবে না দেখে একে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব সক্ষমতা, কাঠামোগত বৈষম্যের অবসান, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার মতো পজিটিভ পিসের (ইতিবাচক শান্তি) সঙ্গে যুক্ত করেছেন।


গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত সরকারের নেতাদের বিচারপ্রক্রিয়া আদতে বাংলাদেশের জনগণের দৈনন্দিন জীবনে কতখানি ‘পজিটিভ পিস’ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, তা আলোচনার দাবি রাখে। কেননা, বিচারপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি সমাজে শান্তি ও সমঝোতা ফেরানোর কমিশন করার দাবি একেবারেই আমলে নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। অথচ সমাজে প্রতিশোধের চক্রকে ভেঙে দৈনন্দিন জীবনে শান্তি ও সহাবস্থান চর্চার রাস্তা করে দেয় এমন কমিশন।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সর্বক্ষেত্রে অভ্যুত্থানের কতিপয় নেতাকে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সুবিধাভোগী হতে দেখা গেছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই নতুন বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। এ কারণে গণ-অভ্যুত্থানকারীদের মধ্যেও বিভাজন ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।


প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই গণ-অভ্যুত্থানের নেতাদের রাজনৈতিক দল গঠন করতে দেখা গেছে। খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে কথা বলার বদলে তাঁদের মূলত ভোটের রাজনীতিতেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে দেখা গেছে। নিজ দলের গঠনতন্ত্র, জনমুখী কর্মপরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিবর্তে বেশির ভাগ সময়েই তাঁরা নানা জনতুষ্টিবাদী মন্ত্র জপে গেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজির অসংখ্য ঘটনা আন্দোলনের মাহাত্ম্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে জনতার আদালতে।


তবে তাদের এই অবারিত ক্ষমতা প্রদর্শনের মূল শিকড়টি প্রোথিত হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায়, যাতে বলা হয়েছিল, গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত কোনো ঘটনায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। পরে ২০২৫ সালে ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’-এ গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনাগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করার বিষয়টিও সংযোজন করা হয়।


এ ছাড়া ৫ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় জুলাই আন্দোলনকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, দায়মুক্তি কি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়সীমার বাইরেও কার্যকর? 


গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর চাঁদাবাজির মামলায় একজন জুলাই আন্দোলনকারী নারীকে গ্রেপ্তারের পর স্বয়ং আইন উপদেষ্টা ৫ জানুয়ারি ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, অভিযুক্ত নারী দ্রুতই প্রতিকার পাবেন। কয়েক ঘণ্টা পরেই সেই নারী জামিন লাভ করেন। জামিন লাভ করা একজন ব্যক্তির আইনি অধিকার বটে, কিন্তু সরকারের আইন উপদেষ্টা যখন এভাবে একটি নির্দিষ্ট মামলা নিয়ে মন্তব্য করেন, সাধারণ নাগরিকদের জন্য সেটি স্বস্তিদায়ক উদাহরণ তৈরি করে না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও